রাজধানীর আদাবর এলাকায় বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিনকে একই বিদ্যালয়ের দারোয়ান ধলু শিকদার বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করেছে। ঘটনা বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে আদাবর রিং রোডে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে সংঘটিত হয়।
স্থানীয়রা আহত প্রধান শিক্ষকের সাহায্যে তাকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ভর্তি করেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে স্থিতিশীল আছেন। পুলিশ ঘটনার পর ধলু শিকদারকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনায় বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
Table of Contents
ঘটনার পেছনের কারণ
ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের তিন কাঠার জমি দীর্ঘদিন ধরে দারোয়ান ধলু শিকদার অনুমতি ছাড়াই ব্যবহার করে আসছিলেন। স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে ২০১৩ সাল থেকে একাধিকবার লিখিত নোটিশ দিয়ে জমি খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল। ২০২০ সালে তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় নোটিশ প্রদান করা হয়।
প্রধান শিক্ষকের ভাষ্য, “২০২৪ সালের পর আমরা স্কুলের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। এজন্য ধলু শিকদারের দখলে থাকা জমিটি আমাদের প্রয়োজন। সরকারি অনুদান পেতে জমিটি খালি থাকা আবশ্যক।”
গত ৩ ফেব্রুয়ারি শিক্ষক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, এক মাসের মধ্যে দারোয়ানকে জমি ছাড়ার জন্য নোটিশ প্রদান করা হবে। নোটিশের অনুলিপি স্থানীয় থানা, শিক্ষা অফিস ও জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়।
হামলার দিন
প্রধান শিক্ষক জানান, বুধবার বিকেলে শিক্ষক সভার পর দারোয়ানকে পুনরায় জমি ছাড়ার জন্য বলা হয়। তিনি স্কুল থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন ফটকের বাইরে দারোয়ান ও তার স্ত্রী অবস্থান করছিলেন। শিক্ষকরা বের হয়ে যাওয়ার পর তারা প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলা চালায়।
প্রশাসনিক পদক্ষেপ
আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় দুজনকে আসামি করে মামলা রুজু করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (টেবিল আকারে)
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| আক্রান্ত | মো. আলাউদ্দিন, প্রধান শিক্ষক |
| হামলাকারী | ধলু শিকদার, দারোয়ান |
| ঘটনা তারিখ | ৪ মার্চ ২০২৬ |
| স্থান | বেগম নূরজাহান মেমোরিয়াল গার্লস স্কুল, আদাবর, ঢাকা |
| আহত হওয়ার ধরন | চড়, ঘুষি ও বেধড়ক পিটুনি |
| পুলিশি ব্যবস্থা | দারোয়ানকে গ্রেপ্তার, মামলা রুজু |
| কারণ | বিদ্যালয়ের জমি অনুমতি ছাড়াই দখল |
প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনা বিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকরা নিরাপত্তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিতের জন্য তৎপর রয়েছেন। পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনার ফলে স্কুল প্রশাসন ও স্থানীয় কমিউনিটি মধ্যে গুরুতর সতর্কবার্তা সৃষ্টি হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
