ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা–লড়াই ক্রমেই উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। লিগের শেষপর্যায়ের ম্যাচগুলোতে দলগুলোর পারফরম্যান্স ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছে সমর্থক ও বিশ্লেষকরা। গত রাতের ফলাফলের পর আপাতত আর্সেনাল শীর্ষে একধাপ এগিয়ে। তাদের জয়ের সঙ্গে সিটি দলের ড্রয়ের সংমিশ্রণই মূলত আর্সেনালের এই সুবিধার কারণ।
ব্রাইটনের মাঠে আর্সেনালের জয় ১–০ গোলে আসে, যেখানে বুকায়ো সাকার মাত্র ৯ মিনিটে করা গোল শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে। গোলটি যদিও ব্রাইটনের গোলকিপার বার্ট ফেরব্রুগেনের দু’পায়ের ফাঁক দিয়ে ব্যর্থতার কারণে সম্ভব হয়। তবে ম্যাচের বেশির ভাগ সময়ই বল দখল ও শটের সংখ্যায় এগিয়ে ছিল ব্রাইটন।
ইতিহাদে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ম্যানচেস্টার সিটি ২–২ গোলে ড্র করেছে নটিংহাম ফরেস্টের সঙ্গে। ম্যাচে দুইবার এগিয়ে থাকার পরও সিটি শেষ পর্যন্ত লিড ধরে রাখতে পারেনি। ৩১ মিনিটে আন্তোনি সেমেনিও এগিয়ে দেন সিটিকে, ৫৬ মিনিটে মরগান গিভস–হোয়াইট সমতা ফেরান, ৬২ মিনিটে রদ্রি ফের সিটিকে এগিয়ে দেন এবং ৭৬ মিনিটে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের গোলে শেষ পর্যন্ত ড্র হয়।
ম্যাচ শেষে আর্সেনাল কোচ মিকেল আরতেতা বলেন, “গত কয়েক সপ্তাহে যেটা হয়েছে, তার পরও এই ম্যাচটা খুবই কঠিন ছিল। আমাদের ছেলেরা অসাধারণ পরিশ্রম করেছে। প্রতিটি ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ দেয়।” সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, “এখনও অনেক ম্যাচ বাকি। আমরা আর্সেনালের তুলনায় একটি ম্যাচ কম খেলেছি। সামগ্রিকভাবে পারফরম্যান্স সন্তোষজনক।”
পয়েন্ট টেবিল আপডেট (৩০ ম্যাচ শেষে আর্সেনাল, ২৯ ম্যাচ শেষে সিটি):
| দল | ম্যাচ | জয় | ড্র | পরাজয় | গোল | পয়েন্ট |
|---|---|---|---|---|---|---|
| আর্সেনাল | ৩০ | ২০ | ৭ | ৩ | – | ৬৭ |
| ম্যানচেস্টার সিটি | ২৯ | ১৮ | ৬ | ৫ | – | ৬০ |
অন্য ম্যাচগুলোতেও উত্তেজনা কম ছিল না। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ মাইকেল ক্যারিক প্রথমবার হার দেখেছেন, ১০ জনের দল ২–১ গোলে হেরেছে নিউক্যাসলের বিরুদ্ধে। চেলসি ৪–১ গোলে অ্যাস্টন ভিলাকে হারিয়ে পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে এবং লিভারপুল ছয় নম্বরে নেমেছে।
এদিকে আর্সেনালের অপরাজিত ধারা বহাল রয়েছে। প্রতিপক্ষের মাঠে সর্বশেষ ১২ ম্যাচে তারা অপরাজিত (৯ জয়, ৩ ড্র)। এই ধারার মধ্যে ৬ ডিসেম্বর ভিলা পার্কে হারের পর আর কোনো মাঠে পরাজয় হয়নি। আরতেতার অধীনে এটি আর্সেনালের দীর্ঘতম প্রতিপক্ষ মাঠে অপরাজিত যাত্রা, যা শিরোপা লড়াইতে তাদের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার লিগের শেষপর্যায়ের উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ফুটবল বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
