মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করার হুমকি দিয়েছে ইরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননে ইরানি মিশনের ওপর ইসরাইল কোনো ধরনের হামলা চালালে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ইসরাইলি কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো পাল্টা আঘাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে পারে।
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখরচি এক টেলিভিশন ভাষণে এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, লেবাননে ইরানের প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান বা কূটনৈতিক স্থাপনায় হামলা চালানো হলে তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল হবে। এমন পরিস্থিতিতে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে বাধ্য হবে এবং বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের কথিত যৌথ সামরিক হামলার পর। তেহরানের দাবি, ওই হামলার মাধ্যমে ইরানের সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে। এ ঘটনাকে ‘আগ্রাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে ইরান পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা জোরদার করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরাইলের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা সাম্প্রতিক ঘটনাবলির কারণে আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট সামরিক ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীও পরিস্থিতি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই এক বিবৃতিতে জানান, লেবাননে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধিদের দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। তিনি বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরাইল এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করছে। বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনাগুলো এখন নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।
এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।
নিচে সাম্প্রতিক উত্তেজনাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| উত্তেজনার সূচনা | ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে কথিত হামলা |
| অভিযুক্ত পক্ষ | ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র |
| পাল্টা প্রতিক্রিয়া | ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার হুমকি |
| নতুন হুমকি | বিশ্বজুড়ে ইসরাইলি দূতাবাস লক্ষ্যবস্তু হতে পারে |
| ইরানি মুখপাত্র | ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুলফজল শেখরচি |
| ইসরাইলি প্রতিক্রিয়া | লেবাননে ইরানি প্রতিনিধিদের সরে যাওয়ার সতর্কবার্তা |
| সময়সীমা | ২৪ ঘণ্টা |
| উদ্বেগের এলাকা | মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চল |
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আনলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় আকারের সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
