বাংলাদেশ সরকারের এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সশস্ত্র বাহিনীর তিন পদস্থ কর্মকর্তাকে বেসামরিক প্রশাসনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক তিনটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের চাকরি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
Table of Contents
নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের পরিচিতি ও পদমর্যাদা
রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেতে যাওয়া এই তিন কর্মকর্তার মধ্যে রয়েছেন সেনাবাহিনীর অত্যন্ত দক্ষ ও অভিজ্ঞ জেনারেলগণ। তারা হলেন— লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান, মেজর জেনারেল মো. জাহাংগীর আলম এবং মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নূর-এ-আলম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, এই কর্মকর্তাদের প্রেষণে (Deputation) নিয়োগের নিমিত্ত তাদের বর্তমান পদ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে। সাধারণত বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোতে সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে সরকার এ ধরনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের রাষ্ট্রদূত হিসেবে প্রেরণ করে থাকে।
নবনিযুক্ত ৩ সেনা কর্মকর্তার সংক্ষিপ্ত তালিকা
| নাম ও পদবি | বর্তমান বাহিনী | প্রেষণকারী মন্ত্রণালয় | নতুন সম্ভাব্য ভূমিকা |
| লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (দেশ পরে নির্ধারিত) |
| মেজর জেনারেল মো. জাহাংগীর আলম | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (দেশ পরে নির্ধারিত) |
| মেজর জেনারেল মো. নাসিম পারভেজ | বাংলাদেশ সেনাবাহিনী | পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় | বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত (দেশ পরে নির্ধারিত) |
নিয়োগের প্রেক্ষাপট ও কৌশলগত গুরুত্ব
রাষ্ট্রদূত হিসেবে পেশাদার কূটনীতিকদের পাশাপাশি সামরিক কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য বাংলাদেশে বিদ্যমান। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার দেশগুলোতে যেখানে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতার বিষয়টি প্রধান্য পায়, সেখানে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ বেশ ফলপ্রসূ হয়। বর্তমানের অস্থিতিশীল ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তা সংকটের এই সময়ে অভিজ্ঞ জেনারেলদের কূটনৈতিক মিশনে পাঠানো একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এবং মেজর জেনারেল পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের এই দায়িত্ব প্রদান নির্দেশ করে যে, সরকার নির্দিষ্ট কিছু দেশে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় এবং প্রতিরক্ষা কূটনীতি (Defense Diplomacy) জোরদার করতে বিশেষভাবে আগ্রহী। বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশন এবং দ্বিপাক্ষিক সামরিক চুক্তির ক্ষেত্রে এই কর্মকর্তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই প্রজ্ঞাপন জারির পর এখন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের নির্দিষ্ট দেশগুলোতে পদায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সম্মতি (Agreément) পাওয়ার পর তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এই কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক দক্ষতা এবং শৃঙ্খলিত কর্মজীবন বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার আশা করছে, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হবেন।
