পাকিস্তান ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর খেলোয়াড়দের ওপর জরিমানা আরোপের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক ফাস্ট বোলার মোহাম্মদ আমির। তিনি বলেছেন, সমস্যার সমাধান শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের শাস্তি দিয়ে হবে না; নির্বাচক ও ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
পাকিস্তানের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি কর্তৃক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের জন্য প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর প্রায় ৫০ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানা আরোপের প্রস্তাব এসেছে।
একটি টকশোতে মোহাম্মদ আমির বলেন, “যদি শুধুমাত্র জরিমানা কার্যকর সমাধান হয়, তা সবার ওপরই প্রযোজ্য হওয়া উচিত। নির্বাচক থেকে শুরু করে প্রশাসন—সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। খেলোয়াড়রা তো বন্দুকের মুখে দল নির্বাচন করেনি; ভুল কম্বিনেশনের দায় নির্বাচকদেরই নিতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “যারা দল নির্বাচন করেছেন এবং কৌশল তৈরি করেছেন, তাদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। মাত্র দুটি ম্যাচ খেলা ফখর জামানকেও কি জরিমানা করা হবে? আর সাহিবজাদা ফারহান এর অবস্থা কী হবে?”
আমিরের মতে, খেলোয়াড়দের ওপর জরিমানা চাপানো সমস্যার স্থায়ী সমাধান নয়। বরং পাকিস্তান ক্রিকেটের উন্নতির জন্য ঘরোয়া ক্রিকেটে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমি শুরু থেকেই বলছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে বিনিয়োগ করুন। সেখান থেকেই মানসম্পন্ন খেলোয়াড় উঠে আসবে। পারফরম্যান্সে অসন্তুষ্ট হলে, তাকে জরিমানা না করে দল থেকে বাদ দিন। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স করলে আবার দলে ফেরার সুযোগ দিন। একজন খেলোয়াড়ের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি হলো দল থেকে বাদ পড়া।”
পাকিস্তান দলের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পারফরম্যান্স (২০২৬)
| ম্যাচ | বিপক্ষ | ফলাফল | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ১ | শ্রীলঙ্কা | জয় | একমাত্র জয় |
| ২ | ভারত | পরাজয় | শক্তিশালী প্রতিপক্ষ |
| ৩ | ইংল্যান্ড | পরাজয় | সেমিফাইনাল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি |
উল্লেখযোগ্য যে, পাকিস্তান টানা দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে উঠতে ব্যর্থ হয়েছে। শুধু শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পেরেছে, কিন্তু ভারত ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হেরেছে। এ কারণে দেশটির ক্রিকেট অঙ্গনে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আমিরের বক্তব্য স্পষ্ট—শাস্তি একপক্ষীয় হওয়া উচিত নয়। খেলোয়াড়দের পাশাপাশি নির্বাচক ও বোর্ড কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব নেওয়া দরকার। পাশাপাশি ঘরোয়া ক্রিকেটে বিনিয়োগ করে নতুন প্রতিভা বিকশিত করতে হবে, যাতে পাকিস্তান ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করতে পারে।
