মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ বর্তমানে এক ভয়ংকর উত্তেজনায় ঘেরা। জায়নবাদী ইসরাইলের আয়রন ডোম ও অ্যারো ডিফেন্স সিস্টেমকে ফাঁকি দিয়ে ইরান ধেয়ে আসছে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনে। তেল আবিব থেকে জেরুজালেম পর্যন্ত শহরগুলো প্রতিনিয়ত মিসাইলের শব্দে কেঁপে উঠছে। তবে প্রশ্ন উঠছে—এই সংঘাতের পেছনে ইরান ঠিক কোন কোন অত্যাধুনিক অস্ত্র ব্যবহার করছে?
প্রথমে হামলার সূচনায় ইরান তাদের স্বল্পদামী কিন্তু নিখুঁত “শহীদ-১৩৬” কামিকাজে ড্রোন মোতায়েন করে। এই ড্রোনগুলো মাত্র কয়েক হাজার ডলারের হলেও রাডার বিভ্রান্তি ও ছোটোখাটো ধ্বংসের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর। ইউক্রেন যুদ্ধের সময় রাশিয়া এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে বিশ্বকে বিস্মিত করেছিল। এখন সেই একই প্রযুক্তি ইসরাইলের জন্য বড় ধ্বংসের হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ড্রোন হামলার পর ইরানের আসল শক্তি প্রদর্শিত হয় ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে। প্রধান মিসাইলগুলোর মধ্যে রয়েছে:
| অস্ত্রের নাম | ধরন | রেঞ্জ | বিশেষ বৈশিষ্ট্য | লক্ষ্যবস্তুতে প্রভাব |
|---|---|---|---|---|
| সিজ্জিল | লং রেঞ্জ ব্যালিস্টিক মিসাইল | ২৫০০ কিমি | ঘণ্টায় ১৭ হাজার কিমি বেগে চলতে সক্ষম | মাত্র কয়েক মিনিটে তেল আবিবে আঘাত করতে পারে |
| খায়বার শেকান | ব্যালিস্টিক মিসাইল | অজানা | মধ্য আকাশে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে | ইন্টারসেপ্ট করা প্রায় অসম্ভব |
| ফাত্তাহ | হাইপারসনিক মিসাইল | ২০০০+ কিমি | শব্দের চেয়ে ১৫ গুণ দ্রুত | ৪০০ সেকেন্ডে লক্ষ্য ধ্বংস করতে সক্ষম |
| পাভেহ | লং রেঞ্জ ক্রুজ মিসাইল | ১৬৫০ কিমি | নিচু উড়ান, পাহাড় ও রাডার এড়িয়ে যায় | সামরিক ঘাঁটি ও এয়ারবেস আঘাত করতে সক্ষম |
বিশেষভাবে, “ফাত্তাহ” হাইপারসনিক মিসাইলটি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শব্দের চেয়ে ১৫ গুণ দ্রুত গতির এই মিসাইলকে কোনো লেটেস্ট ডিফেন্স সিস্টেমও থামাতে পারছে না। ইরান দাবি করছে, মাত্র ৪০০ সেকেন্ডের মধ্যেই তেল আবিবে আঘাত সম্ভব।
এছাড়া, ইরানের হাতে রয়েছে গোপন “সিক্রেট উইপন” ও সম্ভাব্য পারমাণবিক সক্ষমতা পরীক্ষার কথা শোনা যাচ্ছে। লং রেঞ্জ ক্রুজ মিসাইল পাভেহ পাহাড়-পর্বত ও রাডারের চোখ এড়িয়ে নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।
সমগ্র পরিস্থিতি বোঝাচ্ছে, ইরান তাদের সর্বশেষ প্রযুক্তি ও অস্ত্রভাণ্ডার ব্যবহার করে ইসরাইলের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালাচ্ছে। ভবিষ্যৎ সংঘাতের ধরণ নির্ভর করছে এই অত্যাধুনিক অস্ত্রের কার্যকারিতা ও প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ কৌশলের উপর।
মোটের ওপর, এই যুদ্ধই মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্য নতুন এক ভয়ঙ্কর অধ্যায় হিসেবে ধরা দিচ্ছে, যেখানে ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও হাইপারসনিক মিসাইলের যুগ শুরু হয়েছে।
