বাংলাদেশ সরকারের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত অফিস কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে উপস্থিত থাকতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাম্প্রতিক পরিপত্রের মাধ্যমে এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো নাগরিক সেবা প্রদানের মান উন্নয়ন, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং দপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, এই ৪০ মিনিটের সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসে উপস্থিত থাকবেন এবং প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে বাইরে যেতে পারবেন। এর মাধ্যমে অফিসে দায়িত্বশীলতা, সময়ানুবর্তিতা এবং জনসেবার কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
এই পদক্ষেপটি মূলত ২০১৯-২০২১ সালের নিয়মের পুনর্ব্যবহার এবং কঠোর বাস্তবায়নের অংশ। বিশেষ করে জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং অন্যান্য মাঠ পর্যায়ের অফিসে এটি কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হবে। নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে ‘সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯’ এবং সংশ্লিষ্ট শৃঙ্খলা বিধিমালা অনুসারে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া, সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং অফিস সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত (সাধারণত বিকেল ৫টা পর্যন্ত) কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। সকলের ডিজিটাল হাজিরা ও রেজিস্ট্রারে উপস্থিতি এন্ট্রি বাধ্যতামূলক, যা সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই নিয়মের প্রয়োগ সরকারি অফিসের মধ্যে দক্ষতা, জবাবদিহিতা এবং সময়ানুবর্তিতা বৃদ্ধি করবে। পাশাপাশি এটি কর্মকর্তাদের দপ্তরের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও দায়িত্ববোধ আরও দৃঢ় করবে এবং নাগরিক সেবায় আরও মনোযোগী হওয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করবে।
নিচে নির্দেশনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ টেবিল আকারে তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | বিবরণ | মন্তব্য |
|---|---|---|
| প্রযোজন ক্ষেত্র | সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান | সকল অফিসে বাধ্যতামূলক |
| বাধ্যতামূলক সময় | সকাল ৯টা থেকে ৯টা ৪০ মিনিট | কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিস কক্ষে উপস্থিত থাকা আবশ্যক |
| অতিরিক্ত উপস্থিতি | অফিস সময় শেষ না হওয়া পর্যন্ত | সাধারণত বিকেল ৫টা পর্যন্ত, প্রয়োজন অনুযায়ী অনুমতি নিয়ে বাইরে যাওয়া যাবে |
| শাস্তিমূলক বিধি | সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ | নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের ব্যবস্থা নেওয়া হবে |
| উপস্থিতি যাচাই | ডিজিটাল হাজিরা ও রেজিস্ট্রার | এন্ট্রি বাধ্যতামূলক, সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করবে |
| লক্ষ্য | নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক গতিশীলতা, দপ্তর সমন্বয় | দায়িত্ববোধ ও কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য প্রণীত পদক্ষেপ |
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই নির্দেশনা সরকারি দপ্তরগুলোর কার্যকারিতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সময়ানুবর্তিতা ও দায়িত্বশীলতার সংস্কৃতি প্রসারিত করবে এবং দপ্তরীয় কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও সমন্বিত করে তুলবে।
