ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যখন মাত্র চার দিনে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশ্যে ১৩১টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে অঞ্চলটিতে উত্তেজনার বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির কারণে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলো মূলত তুর্কি উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা বন্ধ এবং সুরক্ষাজনিত কারণে রদ করা হয়েছে।
বাতিলকৃত ফ্লাইটের বিবরণ
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, বাতিলকরণ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান সহ বিভিন্ন দেশ সাময়িকভাবে বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ করে। এর ফলে ধাক্কা পড়ে ঢাকা থেকে এসব দেশের গন্তব্যে যাত্রা নির্ধারিত ফ্লাইটগুলোর উপর। বিমান সংস্থাগুলোকে ধাপে ধাপে তাদের রুট বন্ধ করতে হয়েছে।
নিচের টেবিলে ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত দৈনিক বাতিলকৃত ফ্লাইটের সংখ্যা উপস্থাপন করা হলো:
| তারিখ | বাতিল ফ্লাইট সংখ্যা |
|---|---|
| ২৮ ফেব্রুয়ারি | ২৩ |
| ১ মার্চ | ৪০ |
| ২ মার্চ | ৪৬ |
| ৩ মার্চ | ২২ |
| মোট | ১৩১ |
৩ মার্চের পরিস্থিতিতে বাতিলকৃত ফ্লাইটগুলোর মধ্যে কাতার এয়ারওয়েজ, এমিরেটস, গালফ এয়ার এবং ফ্লাইদুবাই প্রতিটি চারটি ফ্লাইট স্থগিত করেছে। কুয়েত এয়ারওয়েজ দুইটি এবং জাজিরা এয়ারওয়েজ চারটি ফ্লাইট বাতিল করেছে। প্রভাবিত রুটগুলোর মধ্যে ঢাকা থেকে দোহা, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ, কুয়েত সিটি এবং মানামা উল্লেখযোগ্য। এই শহরগুলো বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্য প্রধান কর্মসংস্থান ও ট্রানজিট কেন্দ্র।
যাত্রীদের অস্বস্তি ও প্রতিক্রিয়া
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক অসুবিধা দেখা দিয়েছে। গালফ অঞ্চলে কাজের জন্য যাওয়া প্রবাসী শ্রমিক, ব্যবসায়িক প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছেন। অনেকেই বিমানবন্দরে এসে বাতিলকরণের খবর জানতে পেরে হোটেল বুকিং, ভিসা সময়সীমা এবং সংযোগ ফ্লাইটে সমস্যা অনুভব করেছেন।
বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, প্রভাবিত যাত্রীদের বিকল্প ব্যবস্থা প্রদান করা হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে ফ্লাইট পুনঃনির্ধারণ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে টাকা ফেরত। তবে এই বড় ধরনের ব্যাহত অবস্থা বিমান সংস্থার কার্যক্রম এবং যাত্রী সেবায় চাপ সৃষ্টি করেছে।
পুনরায় পরিষেবা শুরু ও সতর্কতা
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ায় কিছু গন্তব্যে ফ্লাইট পুনরায় চালু হয়েছে। তবুও পুরো আকাশসীমা খোলার আগে কিছু গালফ শহরের জন্য পরিষেবা সীমিত রয়েছে।
বিমানবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা দ্রুত বৈশ্বিক বিমান নেটওয়ার্কে প্রভাব ফেলতে পারে। এই ধরনের ফ্লাইট স্থগিতকরণ অর্থনৈতিক এবং ব্যক্তিগতভাবে কষ্টদায়ক হলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়। যাত্রীদের বিমানবন্দরে আসার আগে সরাসরি তাদের বিমান সংস্থার মাধ্যমে ফ্লাইটের অবস্থা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় ঢাকা বিমানবন্দর, সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা এবং যাত্রীদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, যা সাময়িক হলেও আন্তর্জাতিক পরিবহণ ব্যবস্থার জটিলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
