মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানের ধারবাহিকতায় এবার দেশটিতে মার্কিন স্থলবাহিনী (Ground Troops) মোতায়েনের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২ মার্চ) মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক পোস্ট’ এবং ‘সিএনএন’-কে দেওয়া পৃথক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনে কঠোরতম পদক্ষেপ নিতে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। ট্রাম্পের এই বক্তব্য বিশ্বজুড়ে নতুন করে যুদ্ধাতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
Table of Contents
স্থলবাহিনী মোতায়েন ও ভবিষ্যৎ কৌশল
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে, আগের অনেক প্রেসিডেন্টের মতো তিনি আগাম কোনো প্রতিশ্রুতি দেবেন না যে ‘স্থলভাগে কোনো সৈন্য পাঠানো হবে না’। তিনি বলেন, “আমি তেমন কিছু বলছি না। যদি প্রয়োজন হয়, তবে অবশ্যই মার্কিন বাহিনী ইরানে প্রবেশ করবে।” যদিও তিনি মনে করেন বর্তমানে এর হয়তো প্রয়োজন নেই, তবে পরিস্থিতির দাবি অনুযায়ী সব ধরণের সামরিক বিকল্পই তার টেবিলে খোলা রয়েছে। ট্রাম্প আরও যোগ করেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের সবচেয়ে বড় এবং বিধ্বংসী ‘ঢেউ’ এখনো বাকি আছে, যা খুব শীঘ্রই তেহরান প্রত্যক্ষ করবে।
জনমত ও ট্রাম্পের অনড় অবস্থান
রয়টার্স ও ইপসোস-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৩ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরানে এই সামরিক অভিযানের বিপক্ষে। তবে জনমতের এই প্রতিকূলতা ট্রাম্পকে বিচলিত করছে না। তার মতে, এটি জরিপের বিষয় নয়, বরং ‘সঠিক কাজ’ করার বিষয়। তিনি ইরানকে ‘উন্মাদ কিছু মানুষ’ দ্বারা পরিচালিত দেশ হিসেবে অভিহিত করে দাবি করেন যে, তাদের হাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র থাকতে দেওয়া যায় না। ট্রাম্পের বিশ্বাস, তথাকথিত ‘নীরব সংখ্যাগরিষ্ঠ’ মার্কিনীরা আসলে এই অভিযানের পক্ষেই রয়েছে।
নিচে ইরানের ওপর পরিচালিত মার্কিন অভিযানের বর্তমান পরিস্থিতি ও ট্রাম্পের দাবিকৃত তথ্যের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ/পরিসংখ্যান |
| অভিযানের লক্ষ্য | ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস ও শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন। |
| দাবিকৃত নিহতের সংখ্যা | প্রাথমিক হামলায় অন্তত ৪৯ জন ইরানি নেতা নিহত (ট্রাম্পের দাবি)। |
| সহযোগী দেশসমূহে প্রভাব | বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত, কাতার ও ইউএই-তে ইরানের পাল্টা হামলা। |
| অভিযানের সময়সীমা | প্রাথমিক লক্ষ্য ৪ সপ্তাহ; বর্তমানে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে এগিয়ে। |
| মার্কিন জনমত (বিপক্ষে) | ৪৩ শতাংশ (রয়টার্স-ইপসোস জরিপ অনুযায়ী)। |
আঞ্চলিক সংঘাত ও মিত্রদের নিরাপত্তা
ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বিস্ময় ছিল বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের পাল্টা হামলা। এই দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ইরান যে সাহসিকতার সাথে আক্রমণ চালিয়েছে, তা ওয়াশিংটনকে নতুন করে রণকৌশল সাজাতে বাধ্য করছে। ট্রাম্প আশ্বাস দিয়েছেন যে, তিনি এই যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী করতে চান না। তবে ‘বড় আঘাত’ হানার মাধ্যমে তিনি দ্রুত এই সংঘাতের সমাপ্তি টানতে আগ্রহী।
বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া ও আশঙ্কা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরানে স্থলবাহিনী মোতায়েন করা হলে তা কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য চরম বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। লোহিত সাগর ও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ইতিমধ্যেই হুমকির মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের ‘বিশাল ঢেউ’ আসার ঘোষণাটি তেহরান কীভাবে মোকাবিলা করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
