ইরানের রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক অঙ্গনে শোকের ছায়া আরও ঘনীভূত হলো। দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রয়াণের মাত্র দুই দিনের মাথায় তাঁর সহধর্মিণী মানসুরেহ খোজাসতেহ বাগেরজাদেহ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সোমবার (২ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অন্তিম মুহূর্ত
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে পরিচালিত এক আকস্মিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। ওই হামলায় খামেনি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছিলেন, যাদের মধ্যে মানসুরেহ খোজাসতেহ অন্যতম। হামলার পর তাকে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং আপ্রাণ চেষ্টা সত্ত্বেও আঘাতের গুরুত্ব বেশি থাকায় তিনি দুই দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে সোমবার না ফেরার দেশে চলে যান।
মানসুরেহ খোজাসতেহ’র জীবন সংক্ষেপ
মানসুরেহ খোজাসতেহ বাগেরজাদেহ ১৯ מז৭ সালে ইরানের মাশহাদ শহরে এক ধার্মিক ও অভিজাত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬৪ সালে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে তাঁর বিবাহ বন্ধন সম্পন্ন হয়। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তিনি খামেনির রাজনৈতিক সংগ্রামের কঠিন দিনগুলোতে অত্যন্ত ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে পাশে ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের আগে খামেনি যখন বারবার কারাবরণ বা নির্বাসনে ছিলেন, তখন মানসুরেহ একাই সংসার ও সন্তানদের আগলে রেখেছিলেন।
নিচে মানসুরেহ খোজাসতেহ বাগেরজাদেহ’র সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
| নাম | মানসুরেহ খোজাসতেহ বাগেরজাদেহ |
| জন্মস্থান | মাশহাদ, ইরান |
| বিবাহের সাল | ১৯৬৪ খ্রিষ্টাব্দ |
| সন্তান সংখ্যা | ৬ জন (৪ পুত্র ও ২ কন্যা) |
| মৃত্যুর তারিখ | ২ মার্চ, ২০২৬ |
| মৃত্যুর কারণ | হামলায় প্রাপ্ত আঘাতজনিত জটিলতা |
একটি যুগের অবসান
মানসুরেহ খোজাসতেহ জনসম্মুখে খুব একটা আসতেন না। তিনি অন্তরালে থেকে পরিবারের দেখাশোনা এবং খামেনির আধ্যাত্মিক ও রাজনৈতিক জীবনে অনুপ্রেরণা জোগাতে পছন্দ করতেন। তাঁর চার পুত্র—মোস্তফা, মোজতবা, মাসুদ এবং মেয়সাম—সবাই ধর্মীয় ও রাজনৈতিকভাবে ইরানে প্রভাবশালী। অন্যদিকে তাঁর দুই কন্যা—বোশরা এবং হোদা—প্রচারবিমুখ জীবনযাপন করেন।
খামেনির মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রীর এই প্রয়াণ ইরানের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দেশটির সাধারণ মানুষ ও অনুসারীদের মধ্যে এটি গভীর শোকের জন্ম দিয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন করা হবে। এই যুগলবন্দীর প্রস্থানকে ইরানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে একটি বিশাল অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
