ঢাকা শহরটি সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যগামী যাত্রীদের জন্য ব্যাপক ভ্রমণ ব্যাঘাতের মুখোমুখি হয়েছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত এবং কাতারের দিকে যাত্রা করা বিভিন্ন ফ্লাইট গত কয়েকদিনে বাতিল হয়েছে। শুধু সোমবার একদিনে ৩৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে বহু যাত্রীর যাত্রা বিপর্যস্ত হয়েছে। তবে ওমান, সৌদি আরব এবং অন্যান্য গন্তব্যের ফ্লাইটগুলি স্বাভাবিকভাবে চলছে বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বিশেষভাবে সেই যাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন যাদের ভিসার মেয়াদ সীমিত এবং জরুরি ভিত্তিতে ভ্রমণ করতে হবে।
সাম্প্রতিক ফ্লাইট বাতিলের সারসংক্ষেপ
| তারিখ | বাতিল ফ্লাইট সংখ্যা | প্রধান প্রভাবিত গন্তব্য |
|---|---|---|
| শনিবার | ২৩ | মধ্যপ্রাচ্য |
| রবিবার | ৪০ | মধ্যপ্রাচ্য |
| সোমবার | ৩৯ | সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার |
| মোট | ১০২ | — |
ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীরা উল্লেখযোগ্যভাবে মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। তুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জের যাত্রী রাজীব বৈরাগী কুয়েতে যাওয়ার জন্য এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে চড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি গত শুক্রবার ঢাকায় পৌঁছান এবং সাপ্তাহিক ছুটিতে তার যাত্রা চালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি বলেন, “আমার ভিসার মেয়াদ মাত্র তিন দিনের জন্য শীঘ্রই শেষ হচ্ছে। এখন আমি কী করব বুঝতে পারছি না।” শনিবারের ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিনি যাত্রা করতে পারেননি এবং বিমান সংস্থার কাউন্টারে পৌঁছানোর সুযোগও পাননি, কারণ বিমানবন্দরের প্রবেশ সীমাবদ্ধতা থাকায় সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এছাড়া তিনি কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে জানিয়েছেন।
অন্যান্য যাত্রীরাও বিমানবন্দরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। বিশেষ করে যাদের ভিসার মেয়াদ সীমিত, তারা অতিরিক্ত চাপের মধ্যে রয়েছেন। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে বিমান চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে কখন তা এখনও নিশ্চিত নয়।
বিমান সংস্থাগুলো বলেছে যে, প্রভাবিত যাত্রীদের পুনঃনির্ধারিত ফ্লাইট এবং বিকল্প ব্যবস্থার তথ্য দ্রুত জানানো হবে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা যাত্রীদের ওপর বজায় থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, যাত্রীরা সতর্ক থাকুন, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখুন এবং বিমান সংস্থার আপডেট মনিটর করুন। নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চলা এবং সক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা চলমান এই ব্যাঘাত মোকাবেলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতি যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা ও পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি পুনরায় প্রমাণ করেছে। বিমান সংস্থাগুলো এবং কর্তৃপক্ষের প্রতি সক্রিয় নজরদারি ছাড়া সমস্যার সমাধান দ্রুত সম্ভব নয়।
