জাবি শিক্ষার্থী ধর্ষণ: ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অধ্যয়নরত এক নারী শিক্ষার্থীকে পৈশাচিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং ধর্ষণের অভিযোগে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। অভিযুক্ত সাবেক শিক্ষার্থীর অর্জিত সকল প্রাতিষ্ঠানিক সনদ সাময়িকভাবে স্থগিত করার পাশাপাশি ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্তের জন্য ৬ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা বিরাজ করছে।

ঘটনার বিবরণ ও অভিযোগের প্রেক্ষাপট

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের একজন শিক্ষার্থী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার শিকার হন বলে অভিযোগ করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী এস এম তারিকুল ইসলাম। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, ওই দিন সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে ‘বীর প্রতীক তারামন বিবি হল’ সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অপহরণের চেষ্টা করা হয়।

পরবর্তীতে তাকে জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী ইসলামনগর এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা এবং মুখ বেঁধে পৈশাচিক কায়দায় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় এবং একপর্যায়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও ন্যায়বিচারের আশায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপ ও তদন্ত কমিটি

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর আবেদনের প্রেক্ষিতে শনিবার বিকেলে উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে একটি জরুরি প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), কোষাধ্যক্ষ, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং প্রক্টর উপস্থিত ছিলেন। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তারকে সভাপতি করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নিম্নে তদন্ত কমিটির সদস্যদের তালিকা প্রদান করা হলো:

পদের নামনাম ও বিভাগকমিটির ভূমিকা
সভাপতিঅধ্যাপক মোহাম্মদ মাফরুহী সাত্তার (জীববিজ্ঞান অনুষদ)প্রধান সমন্বয়কারী ও সভাপতি
সদস্যঅধ্যাপক ড. মো. সোহেল রানা (ফার্মেসি বিভাগ)কারিগরি ও প্রশাসনিক সদস্য
সদস্যঅধ্যাপক ড. খন্দকার মোহাম্মদ শরীফুল হুদা (ভূগোল ও পরিবেশ)সদস্য
সদস্যঅধ্যাপক ড. মির্জা তাসলিমা সুলতানা (নৃবিজ্ঞান বিভাগ)সদস্য
সদস্যঅধ্যাপক ড. নাসরীন সুলতানা (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ)সদস্য
সদস্য সচিবলুৎফর রহমান আরিফ (ডেপুটি রেজিস্ট্রার)প্রশাসনিক ও নথি ব্যবস্থাপনা

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা

জরুরি ওই সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক, অভিযুক্ত এস এম তারিকুল ইসলামের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তরসহ সকল প্রকার সনদপত্র সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটি প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি অত্যন্ত শক্ত বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখা এবং রাষ্ট্রীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তদন্ত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত পূর্বক সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্তে দোষ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে একাডেমিক বহিষ্কারসহ প্রচলিত আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখতে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রক্টরিয়াল বডি বর্তমানে বিশেষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।