ডাকসু ডাক দিলো প্রক্টর অফিস ঘেরাওতে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে সম্প্রতি বিভিন্ন স্থানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের পোস্টার লাগানোর ঘটনা তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) প্রক্টর অফিস ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দিয়েছে।

শনিবার সকাল ৬টায় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের জানান, “উক্ত কর্মসূচি শনিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসের সামনে শুরু হবে। আমরা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে এবং ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নিচ্ছি।”

একই বিষয়ে, জাতীয় ছাত্রশক্তি বিকেলে পৃথক বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দিয়েছে। দুই সংগঠনই বলছে, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পোস্টার লাগানো আইন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মের পরিপন্থী।

পোস্টার লাগানোর স্থান ও বিষয়বস্তু

শুক্রবার রাতে ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পলাতক সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন তার ফেসবুক পেজে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। ভিডিওতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিম্নলিখিত স্থানগুলোতে পোস্টার টাঙানো হয়েছে:

স্থানপোস্টারের বিষয়বস্তুলক্ষ্য ও প্রতিক্রিয়া
মধুর ক্যান্টিন“বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সব রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই”শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে
কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিএকই লেখালাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন
কেন্দ্রীয় মসজিদএকই লেখাধর্মীয় স্থানে রাজনৈতিক পোস্টার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
কলা ভবন সংলগ্ন শ্যাডোএকই লেখাশিক্ষার্থীদের ক্ষোভের কারণ
ডাকসু ক্যাফেটেরিয়াএকই লেখাডাকসু পক্ষ থেকে প্রতিবাদ
সমাজবিজ্ঞান চত্তরএকই লেখাপ্রশাসনকে দৃষ্টি আকর্ষণ
চারুকলাএকই লেখাপোস্টার অপসারণের দাবি উঠেছে
হাকিম চত্বরএকই লেখাছাত্র সমাজে উত্তেজনা সৃষ্টি
শামসুন্নাহার হলএকই লেখাহল প্রশাসনের উদ্বেগ
কার্জন হলএকই লেখাক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সতর্ক
জগন্নাথ হলএকই লেখাশিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন

ডাকসু দাবি করেছে, এই ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিঘ্নিত করছে। তাই তারা প্রক্টর অফিস ঘেরাও কর্মসূচি এবং সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়হীনতার কারণে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ না করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারে।

ডাকসু ও অন্যান্য শিক্ষার্থী সংগঠন আশা করছে, প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ক্যাম্পাসে শান্তি বজায় রাখবে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড সীমিত করবে।

ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা সতর্ক থাকতে এবং সংঘাত এড়াতে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে চলার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।