২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ শুক্রবার, জাতির প্রাক্তন উপদেষ্টাদের জন্য একটি সম্মানজনক ইফতার ও ডিনার আয়োজন করা হয় প্রাক্তন বিদ্যুৎ ও শক্তি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের দ্বারা তাঁর মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবনে। এই সন্ধ্যায় উপস্থিত ছিলেন দেশের প্রবীণ নীতি নির্ধারণকারী ও সাবেক উপদেষ্টা যারা জাতীয় নীতিমালা এবং কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন, যা পরিবেশকে আরও উষ্ণ ও আত্মীয়সুলভ করে তোলে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস, যিনি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষ করেছেন। প্রফেসর ইউনুস তার অভিজ্ঞতা ও সমসাময়িক নীতি বিষয়ক পরামর্শ শেয়ার করেন এবং ভবিষ্যৎ নীতি প্রণয়ন ও সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন সদ্য অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ. মনসুর এবং বর্তমান দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। এই সমাবেশ প্রাক্তন নীতি নির্ধারক ও বর্তমান উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে আন্তঃস্মৃতি বিনিময় এবং অর্থবহ সংলাপের একটি বিরল সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
প্রাক্তন প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উল্লেখ করেন যে, ফাওজুল কবির খান এবং তার পরিবার মিন্টো রোডের সরকারি বাসভবন খালি করে ২৮ ফেব্রুয়ারি একটি ভাড়া করা বাসভবনে স্থানান্তরিত হবেন। তিনি পোস্টের সঙ্গে অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন, যা অনুষ্ঠানের বন্ধুত্বপূর্ণ ও উষ্ণ পরিবেশ তুলে ধরে।
প্রাক্তন উপদেষ্টাদের তালিকা
| নাম | পদবি / স্বীকৃতি |
|---|---|
| সালেহউদ্দিন আহমেদ | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| আসিফ নজরুল | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| আদিলুর রহমান খান | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| সাঈদা রিজওয়ানা হাসান | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| মো. তৌহিদ হোসেন | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| সি.আর. আব্রার | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| শেখ বাসিরউদ্দিন | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| শারমিন এস. মুরশিদ | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| এ.কে.এম. সাখাওয়াত হোসেন | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| ফারিদা আখতার | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| বিদ্যমান রঞ্জন পোদ্দার | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
| সুপ্রদীপ চাকমা | প্রাক্তন উপদেষ্টা |
ইফতার ও ডিনার চলাকালীন, উপস্থিতরা পূর্ববর্তী নীতি সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, ভবিষ্যৎ কর্মসূচি ও জাতীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুস তাঁর দৃষ্টিকোণ শেয়ার করে নীতি প্রণয়নে সহযোগিতা ও উপদেষ্টা input-এর গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
এ ধরনের সমাবেশ প্রমাণ করে যে, সরকারি দায়িত্বের বাইরে প্রাক্তন ও বর্তমান নীতি নির্ধারকরা আন্তরিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। ফাওজুল কবির খানের উদ্যোগ একটি অনন্য সামাজিক অনুষ্ঠান হিসেবে দাঁড়ায়, যা পারিবারিক উষ্ণতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্মান একত্রিত করে এবং জাতীয় নেতৃত্বের বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে বন্ধনকে দৃঢ় করে।
সমাবেশের মাধ্যমে প্রাক্তন উপদেষ্টারা কেবল সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রথা উদযাপন করেন না, বরং জ্ঞানের আদানপ্রদান ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নীতি নির্ধারণে সহায়তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
