কিম জং উনের তীব্র হুঁশিয়ারি দক্ষিণ কোরিয়াকে

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন সম্প্রতি দেশটির নিরাপত্তা বিপন্ন হলে দক্ষিণ কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই সতর্কবার্তা বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। কিমের এই ঘোষণা এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন উত্তেজনার সূচনা করেছে।

কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিম সম্প্রতি অনুষ্ঠিত রাজনৈতিক সম্মেলনে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সামরিক ও নীতিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতি তার কঠোর অবস্থান স্পষ্ট হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা সম্পূর্ণভাবে বাতিল হয়নি। কিম জং উন জানিয়েছেন, তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোনো ধরনের সংলাপে বসতে ইচ্ছুক নন এবং দেশটিকে চিরস্থায়ী শত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা

পিয়ংইয়ং এখন নিম্নলিখিত সামরিক উন্নয়নগুলোতে গুরুত্ব দিচ্ছে:

সামরিক উন্নয়নবর্ণনা
আইসিবিএমপানির নিচ থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র
পারমাণবিক অস্ত্রদক্ষিণ কোরিয়াকে লক্ষ্য করে ব্যবহারযোগ্য ট্যাকটিক্যাল পারমাণবিক অস্ত্রের ভাণ্ডার সম্প্রসারণ
ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিসাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্রুত উন্নয়ন, যা উত্তর কোরিয়াকে স্থায়ী পারমাণবিক শক্তির মর্যাদা দিয়েছে

কিম জং উন উল্লেখ করেছেন, এই সামরিক শক্তি উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে স্থায়ী পারমাণবিক শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি তিনি তুলনামূলকভাবে নরম অবস্থান বজায় রেখেছেন। কিম বলেছেন, “যদি ওয়াশিংটন পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি শত্রুতামূলক নীতি বাতিল করে, তাহলে পুনরায় আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।”

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিক্রিয়া

দক্ষিণ কোরিয়ার ইউনিফিকেশন মিনিস্ট্রি এই হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয় জানায়, উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে আন্তঃকোরীয় সম্পর্ককে শত্রুতামূলক হিসেবে চিহ্নিত করা অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি অঞ্চলীয় শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্লেষক মত

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিম জং উনের এই কৌশল মূলত দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে সীমাবদ্ধতা ও রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টিতে, এই হুঁশিয়ারি নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং পারমাণবিক সক্ষমতার প্রতিযোগিতা তীব্র করেছে।

উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক ও সামরিক হুঁশিয়ারি মূলত ২০২৬ সালের দিকে এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক মানচিত্রকে পুনর্গঠনে প্রভাব ফেলতে পারে, যা দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনসহ সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তা নীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।