বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করেছে। রাত ১টার দিকে শহীদ মিনারের সামনে থেকে শুরু হওয়া এই মিছিলটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে একতাবদ্ধ মনোভাবের পরিচায়ক হিসেবে ধরা হচ্ছে। তারা জোরালোভাবে দাবি করেছেন, ক্যাম্পাসকে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক রাখা তাদের অটল ইচ্ছা এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘমেয়াদি স্বাতন্ত্র্যের রক্ষার অংশ।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঢাকা-৮ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী নিয়মিত তারাবি ও জনসংযোগ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে বুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে নামাজ পড়তে আসেন। মসজিদটি সকলের জন্য উন্মুক্ত হওয়া সত্ত্বেও, নামাজের পর রাজনৈতিক স্লোগান প্রদর্শনের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অরাজনৈতিক পরিচয়ের পরিপন্থী।
প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, “আবরার ফাহাদ এবং সাবেকুন্নাহার সনি—দুইজন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক শিক্ষার্থীর ত্যাগের বিনিময়ে আমরা বুয়েটে একটি অরাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করেছি। ছাত্ররাজনীতি শুধু প্রাণহানিই ঘটায়নি, বরং বহু শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ও ক্যারিয়ারও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।”
তারা আরও উল্লেখ করেন, বুয়েটে শিক্ষার্থীদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত ‘শিক্ষার্থী’ হিসেবে। কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা প্রভাব ক্যাম্পাসে গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি হওয়া উচিত জ্ঞানচর্চা, গবেষণা ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের নিরাপদ ক্ষেত্র, রাজনৈতিক প্রভাব প্রদর্শনের মঞ্চ নয়।
শিক্ষার্থীরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা যেকোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম প্রত্যাখ্যান করেন এবং ভবিষ্যতেও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস বজায় রাখার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
নিচের টেবিলে বুয়েটের অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস রক্ষার মূল বিষয়গুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| বিক্ষোভের তারিখ ও সময় | ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১টা |
| আয়োজনের স্থান | শহীদ মিনার, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় |
| মূল অভিযোগ | রাজনৈতিক স্লোগান এবং প্রার্থীর ক্যাম্পাসে উপস্থিতি |
| শিক্ষার্থীর দাবি | বুয়েটকে অরাজনৈতিক রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখা |
| প্রতিশ্রুতি | ভবিষ্যতেও রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস বজায় রাখা |
শিক্ষার্থীরা আশা প্রকাশ করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের দাবিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করবে এবং বুয়েটের অরাজনৈতিক পরিচয় অক্ষুণ্ণ রাখবে। এই শান্তিপূর্ণ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একত্রিত হওয়ার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনীতির অনৈতিক প্রভাব রোধে সহায়ক হতে পারে।
ক্যাম্পাসজুড়ে এই প্রতিবাদ স্পষ্টভাবে প্রমাণ করেছে, শিক্ষার্থীরা শুধুমাত্র শিক্ষার প্রতি উৎসাহী নয়, বরং তাদের প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধ রক্ষায়ও সচেতন।
