সর্বোচ্চ আদালত আজ বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাগেরহাটের খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব খান আকরাম হোসাইনকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়মুক্ত ঘোষণা করেছে। আপিল বিভাগের আদালত এই রায় প্রদান করেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে। রাষ্ট্রের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন প্রধান প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলাম।
মামলাটি ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১, বাগেরহাটে শুরু হয়েছিল। ১১ আগস্ট ২০১৫ তারিখে ট্রাইব্যুনাল প্রথম রায় দেন। রায়ের মাধ্যমে শেখ সিরাজুল হক, যিনি সিরাজ মাস্টার নামেও পরিচিত, পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত হন। একই মামলায় খান আকরাম হোসাইনকে একটি প্রমাণিত অভিযোগের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়। তৃতীয় আসামী আবদুল লতিফ তালুকদার মামলার মধ্যেই মৃত্যুবরণ করায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রত্যাহার করা হয়।
আজকের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, তিন আসামির মধ্যে সিরাজুল হককে ছয়টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল, আর খান আকরামের মাত্র তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হয়েছিল। সুতরাং, সিরাজুল হকের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে, আর খান আকরাম হোসাইনকে আপিলে দায়মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
নিচের টেবিলে মামলার প্রধান তথ্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:
| আসামির নাম | মোট অভিযোগ | প্রমাণিত অভিযোগ | প্রাথমিক রায় | আপিলের রায় |
|---|---|---|---|---|
| শেখ সিরাজুল হক (সিরাজ মাস্টার) | ৬ | ৫ | মৃত্যুদণ্ড | বহাল |
| খান আকরাম হোসাইন | ৩ | ১ | যাবজ্জীবন | দায়মুক্ত |
| আবদুল লতিফ তালুকদার | ১ | ০ | বিচারাধীন | মৃত্যুর কারণে বাদ |
খান আকরামের জামিন প্রদর্শন করে যে, যুদ্ধাপরাধ সংক্রান্ত মামলাগুলি অত্যন্ত জটিল এবং বাংলাদেশের বিচার প্রক্রিয়া সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে। আইনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই রায় দেশের বিচার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, যা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধের ন্যায্য বিচার প্রক্রিয়া প্রদর্শন করে।
মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ পরিচালিত হওয়ায় এটি দেশের ইতিহাসে অন্যতম সংবেদনশীল এবং নজরকাড়া মামলা হিসেবে বিবেচিত হয়। সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের পর আসামিদের পরিবার বিষয়টি গ্রহণ করেছেন, যা দেশের আইনি ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করেছে।
মোটের উপর, এই দায়মুক্তি ১৯৭১ সালের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে এবং বাংলাদেশের বিচার ও ইতিহাসে এটি একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে থাকবে।
