চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ২০২৫ সালের মে মাসে মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগসহ তার সহযোগী সংগঠনগুলোর সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে এবং দলটির নিবন্ধন বন্ধ করে দিয়েছিল। এই কারণে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণ করতে পারেনি। নির্বাচনের আগে ‘নো বোট নো ভোট’ আন্দোলন চালানো হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার কারণে দল কোনো বড় ধরনের প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি নিতে পারেনি।
নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর বর্তমানে আওয়ামী লীগ তুলনামূলক স্বস্তিতে রয়েছে। ঢাকা এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীরা ধীরে ধীরে কার্যালয়ে প্রবেশ শুরু করেছেন। কোথাও কার্যালয় পুনর্দখল বা অবস্থান নিয়েছেন, তবে কিছু জায়গায় পালটা দখল, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটলেও দলটি এটিকে একধরনের ‘ইতিবাচক সংকেত’ হিসেবে দেখছে।
আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকার দলটির প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক পুনরাগমনকে ঘোর বিরোধী হিসেবে দেখেছিল। সেই কারণে স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় কার্যালয় পুনরায় খোলা সম্ভব হয়নি। বিএনপির রাজনৈতিক নমনীয়তার কারণে কিছুটা উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়েছে।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলাপ থেকে জানা গেছে, বর্তমানে আওয়ামী লীগ সহিংসতার পথ এড়িয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম গুছিয়ে করতে চাইছে। কিছুটা রাজনৈতিক ‘স্পেস’ পেলে কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানো হবে। অতীতে যাদের কারণে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তাদের নেতৃত্বে রাখার পরিবর্তে পরিচ্ছন্ন ও তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আওয়ামী লীগের হাইকমান্ড মনে করছে, নবনির্বাচিত সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্ব দেবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বক্তব্য ও পদক্ষেপে তারা ‘স্বস্তির জায়গা’ দেখছেন। অনেক নেতা আশা করছেন, কার্যক্রমে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিগগিরই প্রত্যাহার করা হতে পারে।
দলীয় পুনর্গঠন ও পরিকল্পনা (প্রাথমিক পর্যায়)
| ক্রমিক | কার্যক্রম | লক্ষ্য | বর্তমান অবস্থান |
|---|---|---|---|
| ১ | কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুনঃপ্রতিষ্ঠা | শৃঙ্খলাবদ্ধ রাজনীতি | প্রস্তুত, অনুমতির অপেক্ষায় |
| ২ | জেলা-উপজেলা কার্যালয় পুনর্খোলা | স্থানীয় নেতাকর্মীদের সক্রিয় করা | অংশিক কার্যক্রম শুরু |
| ৩ | পরিচ্ছন্ন ও তরুণ নেতৃত্বকে নেতৃত্বে আনা | ভাবমূর্তি উন্নয়ন | নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে |
| ৪ | কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠন | সাংগঠনিক দৃঢ়তা | পরিকল্পনা প্রস্তুত, প্রয়োগ শিগগির |
| ৫ | সহিংসতা এড়িয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড | স্থিতিশীল ও ইতিবাচক রাজনীতি | দল ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছে |
সব মিলিয়ে, আওয়ামী লীগ এখন রাজনৈতিক ‘স্পেস’ পেলে সহিংসতা এড়িয়ে সংগঠন পুনর্গঠন ও নতুন ধারার রাজনীতির প্রস্তুতিতে মনোযোগী। দলের নেতারা মনে করছেন, সরকারিকভাবে কিছু ছাড় বা ‘সবুজ সংকেত’ পেলে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
