ভারতের উত্তর প্রদেশের ফতেহপুর জেলায় এক বিয়ের অনুষ্ঠানে তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যার পরিণতিতে শেষ পর্যন্ত বিয়েটিই বাতিল হয়ে যায়। কনের পোষা কুকুরকে ঘিরে শুরু হওয়া বিরোধ দ্রুতই দুই পরিবারের মধ্যে সহিংসতায় রূপ নেয়, এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ২৫ বছর বয়সী স্বর্ণকার সুমিত কেসারওয়ানির সঙ্গে ১৯ বছর বয়সী তনু কেসারওয়ানির বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলছিল। অনুষ্ঠানটি যথারীতি আনন্দঘন পরিবেশে শুরু হলেও এক পর্যায়ে কনের পোষা কুকুরটি বারবার ঘেউ ঘেউ করতে থাকে। এতে বরপক্ষের কয়েকজন সদস্য বিরক্ত হয়ে ওঠেন এবং কুকুরটিকে চুপ করানোর চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, প্রথমে বিষয়টি কথাকাটাকাটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বরপক্ষের একজন কুকুরটিকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এতে কনের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ জানান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়, যা পরে সংঘর্ষে রূপ নেয়। চেয়ার, লাঠি ও অন্যান্য জিনিসপত্র ব্যবহার করে মারামারি চলতে থাকে।
এই সংঘর্ষে কনের পরিবারের অন্তত তিনজন—ঋষভ কেসারওয়ানি, শুভম গুপ্তা ও সঙ্গীতা দেবী—মাথায় গুরুতর আঘাত পান। এছাড়া একজনের হাত ভেঙে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বরপক্ষের কয়েকজন সদস্যও সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় খাগা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আর কে প্যাটেল জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও জানান, সংঘর্ষের কারণে বিয়ের অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয় এবং পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়েটি বাতিল ঘোষণা করা হয়।
নিম্নে ঘটনাটির সংক্ষিপ্ত বিবরণ একটি সারণিতে উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| স্থান | ফতেহপুর, উত্তর প্রদেশ |
| ঘটনার ধরন | বিয়ে বাড়িতে সংঘর্ষ |
| কারণ | কনের পোষা কুকুরকে ঘিরে বিরোধ |
| আহতের সংখ্যা | অন্তত ৫ জন |
| গুরুতর আহত | ৩ জন (মাথায় আঘাত), ১ জনের হাত ভাঙা |
| বিয়ের অবস্থা | বাতিল |
স্থানীয় সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, পারিবারিক অনুষ্ঠানে ছোটখাটো বিরোধ অনেক সময় বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়, বিশেষ করে যখন আবেগ ও সামাজিক সম্মান জড়িয়ে থাকে। এই ঘটনাটিও তার একটি উদাহরণ, যেখানে সামান্য বিষয় থেকে সম্পর্কের ভাঙন ঘটে।
এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে পারস্পরিক সহনশীলতা, সংযম এবং পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংলাপ ও বোঝাপড়ার অভাব থাকলে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সহজেই ঘটতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত বড় সামাজিক ও ব্যক্তিগত ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
