পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রাকে কেন্দ্র করে ট্রেনভিত্তিক যাতায়াতে চাপ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকায় আগাম পরিকল্পনা, অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ৩ মার্চ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত ঈদযাত্রার অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা হবে এবং এই টিকিট সম্পূর্ণরূপে অনলাইনের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। এতে করে টিকিট বিক্রিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কালোবাজারি প্রতিরোধের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ফিরতি যাত্রার টিকিট বিক্রি শুরু হবে ১৩ মার্চ থেকে, যা চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত।
ঈদ উপলক্ষে নিয়মিত আন্তঃনগর ট্রেনের পাশাপাশি পাঁচ জোড়া বিশেষ ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব ট্রেন নির্ধারিত রুটে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন করবে, যা ঈদযাত্রার চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ ট্রেনের রুটসমূহ
| ক্রম | রুট |
|---|---|
| ১ | চট্টগ্রাম – চাঁদপুর |
| ২ | ঢাকা – দেওয়ানগঞ্জ |
| ৩ | ভৈরববাজার – কিশোরগঞ্জ |
| ৪ | ময়মনসিংহ – কিশোরগঞ্জ |
| ৫ | জয়দেবপুর – পার্বতীপুর |
অগ্রিম টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে সময়সূচিও নির্ধারণ করা হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে ছাড়া হবে। একজন যাত্রী একসঙ্গে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট ক্রয় করতে পারবেন, তবে এসব টিকিট ফেরতযোগ্য নয়। যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হবে, যা নিম্ন ও সাধারণ শ্রেণির যাত্রীদের জন্য বিশেষ সুবিধা হিসেবে বিবেচিত।
ঈদের আগে ১৬ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধ বাতিল থাকবে, যাতে যাত্রী পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তবে ঈদের পর পুনরায় স্বাভাবিক সূচিতে ফিরে আসবে ট্রেন চলাচল। সময়ানুবর্তিতা বজায় রাখতে ডিভিশনাল ও জোনাল পর্যায়ে মনিটরিং সেল গঠন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জরুরি দায়িত্বে নিয়োজিত করা হবে।
নিরাপত্তা জোরদারে বড় স্টেশনগুলোতে জিআরপি, আরএনবি, বিজিবি, র্যাব ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। টিকিটবিহীন যাত্রীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, রেলপথে নিয়মিত পেট্রোলিং, সিগন্যালিং ব্যবস্থা পরীক্ষা এবং কোচ ও ইঞ্জিনের নিবিড় পর্যবেক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনা মোকাবেলায় রিলিফ ট্রেন প্রস্তুত রাখা হবে।
বিশেষ বিধিনিষেধের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—ঈদের আগে নির্দিষ্ট কিছু দিনে জয়দেবপুর-ঢাকা ও বিমানবন্দর-ঢাকা রুটে আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট ইস্যু বন্ধ থাকবে এবং কয়েকটি ট্রেনের বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি সাময়িকভাবে বাতিল করা হবে। যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত কোচ সংযোজনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যমে ভুয়া টিকিট বিক্রির লিংক ছড়ালে তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর জন্য যাত্রীদের সতর্ক করা হয়েছে। সার্বিকভাবে ঈদযাত্রাকে আরামদায়ক, সময়ানুবর্তী ও নিরাপদ করতে রেলওয়ের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
