জুনিয়র সাউথ এশিয়ান গেমসের নির্দিষ্ট দিন-তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি। তবে এ বছরের যেকোনো সময়ে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস (টিটি) ফেডারেশন প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। তারা অনূর্ধ্ব-১৭ ও অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সের সম্ভাবনাময়ী কিশোর-কিশোরীদের জন্য বাছাই ও র্যাঙ্কিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে।
বাছাই প্রতিযোগিতা চলেছে পল্টনের তাজউদ্দিন আহমেদ উডেন ফ্লোর জিমনেশিয়ামে, ভোর থেকে বিকাল পর্যন্ত। প্রতিযোগিতায় মোট ৩২ জন খেলোয়াড় (বালক ও বালিকা) অংশগ্রহণ করেছেন। তিন দিনের এই নির্বাচনী পর্বে চারটি ক্যাটাগরিতে—অনূর্ধ্ব-১৭ বালক, অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা, অনূর্ধ্ব-১৯ বালক এবং অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা—ফাইনাল ১৬ জনকে বাছাই করা হবে। এরপর এই ১৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী ক্যাম্প শুরু হবে, যা বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) সংরক্ষণাগারে অনুষ্ঠিত হবে।
ফেডারেশনের সদস্য সুজন মাহমুদ জানিয়েছেন, “ফেডারেশনের পরিকল্পনা অনেক বড়। এবারের জুনিয়র সাউথ এশিয়ান গেমস শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা রয়েছে। যদিও এখনো সময় নির্ধারণ হয়নি, আমরা প্রস্তুতিতে পিছিয়ে নেই। আমাদের প্রত্যাশা এবং স্বপ্ন অনেক বড়। নতুন প্রতিভা উদ্ভাবন করাই মূল লক্ষ্য, যাতে জাতীয় দলের পাইপলাইন আরও শক্তিশালী হয়।”
বাছাই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করছেন জাতীয় টেবিল টেনিস নারী এককে চ্যাম্পিয়ন খই খই সাই মারমা, যিনি অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা ক্যাটাগরিতেও নজর কাড়ছেন। খই খই এর আগে সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে জাবেদ আহমেদ-এর সঙ্গে মিশ্র দ্বৈতে রূপা পদক জিতেছেন। ১৮ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান খেলোয়াড় আগামী দিনে জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
নিচের টেবিলে বাছাই প্রতিযোগিতার সংক্ষিপ্ত তথ্য দেখানো হলো:
| ক্যাটাগরি | অংশগ্রহণকারী সংখ্যা | নির্বাচিত খেলোয়াড় (ফাইনাল) | উল্লেখযোগ্য খেলোয়াড় |
|---|---|---|---|
| অনূর্ধ্ব-১৭ বালক | ৮ | ৪ | – |
| অনূর্ধ্ব-১৭ বালিকা | ৮ | ৪ | – |
| অনূর্ধ্ব-১৯ বালক | ৮ | ৪ | – |
| অনূর্ধ্ব-১৯ বালিকা | ৮ | ৪ | খই খই সাই মারমা |
ফেডারেশন আশা করছে, এই ক্যাম্প ও বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের জুনিয়র টেবিল টেনিস খেলোয়াড়দের মান উন্নত হবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের উপস্থিতি আরও দৃঢ় হবে। বিশেষ করে সাউথ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের অর্জনের লক্ষ্য এবার আরও উচ্চমাত্রার।
এই উদ্যোগ কেবল টুর্নামেন্টের জন্য নয়, বরং জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ নির্মাণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফেডারেশন নতুন প্রতিভা আবিষ্কার ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে টেবিল টেনিসকে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্য রাখছে।
