রাজশাহীর পুটিয়া গ্রামে এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান হিসেবে জন্ম নেওয়া আসাদুল্লাহ আল গালিব আজ আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং জগতে একজন স্বীকৃত ও সফল ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। এক সময় যেখানে তার হাতে ছিল শুধু হারানো পিতার পরিশ্রমের ছাপ এবং নৌকা চালানোর দক্ষতা, আজ তিনি বিশ্বের বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে তার দক্ষতা ও সৃজনশীলতায় সমাদৃত। তার কাহিনী শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্প নয়, এটি অধ্যবসায়, প্রতিভা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়নের শক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
Table of Contents
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
গালিবের শৈশব কেটেছে একটি সাধারণ কৃষক পরিবারে। পিতা মো. আবদুস সামাদ মন্ডল এবং মাতা আয়েশা বেগম সীমিত আয়ের মধ্যে পরিবারের দায়িত্ব সামলাতেন। ছোটবেলা থেকেই গালিবের শিক্ষাগত ক্ষমতা বিশেষভাবে নজর কাড়ে।
২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে জিপিএ–৫ অর্জন।
২০১৪ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকেও একই সাফল্য।
এরপর খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়) লেদার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ভর্তি হন।
তবে আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় দৈনিক ৩০ টাকা বাঁচানোর জন্য তিনি ক্ষুদ্র খাবার ত্যাগ করতেন। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পরিবারকে সাহায্য করার জন্য টিউশন পড়ানো এবং আংশিক চাকরি চালিয়ে গেছেন, পাশাপাশি স্কুলমেট হীরা খাতুনের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ব্যক্তিগত দায়িত্বও বেড়ে গেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| জন্মস্থান | পুটিয়া, রাজশাহী |
| পারিবারিক পটভূমি | কৃষক পরিবার |
| প্রাথমিক শিক্ষা | স্থানীয় গ্রাম স্কুল |
| মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক | রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল |
| বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি | ২০১৪, খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়, লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং |
প্রারম্ভিক সংগ্রাম ও ডিজিটাল দক্ষতা
ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার পাশাপাশি উদ্ভাবনের প্রতি আগ্রহ থাকায় গালিব তার বাবার উপহার দেওয়া পুরনো ল্যাপটপে ডিজিটাল মার্কেটিং শিখতে শুরু করেন। এক বছরের অধ্যবসায় এবং স্বল্প ফ্রিল্যান্স আয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেন। ইংরেজি ভাষা শেখার প্রাথমিক পাঠের মাধ্যমে তিনি আত্মবিশ্বাসী হন এবং আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের সাথে কার্যকর যোগাযোগ করতে পারেন। প্রথম তিন ডলার আয়ের আনন্দ তাকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয়।
পূর্ণকালীন ফ্রিল্যান্সিংয়ে পদক্ষেপ
ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি ও অ্যাপেক্স ফুটওয়্যারে ইন্টার্নশিপ শেষে সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় পাশ করলেও সীমিত বেতন এবং সৃজনশীলতার অভাব তাকে সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। তিনি চাকরি ছাড়েন এবং পূর্ণকালীন ফ্রিল্যান্সিং গ্রহণ করেন।
| প্ল্যাটফর্ম | সাফল্য |
|---|---|
| আপওয়ার্ক | টপ রেটেড প্লাস, ১০০,০০০ ডলার আয় |
| ফাইভার | প্রো ভেরিফায়েড, ২০,০০০ ডলার আয় |
সাফল্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বর্তমানে গালিব মাসে ১,৫০,০০০–২,০০,০০০ টাকা আয় করেন। তিনি ১০–১২ দক্ষ তরুণের একটি দল পরিচালনা করেন এবং আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টদের জন্য নিজস্ব ডিজিটাল মার্কেটিং এজেন্সি পরিচালনা করেন। তার লক্ষ্য ১,০০০ জনকে কর্মসংস্থান দেওয়া এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অবদান রাখা।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জিপিএ–৫ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামই চূড়ান্ত পরিমাপক নয়। সততা, সঠিক পরামর্শদাতা এবং দৃঢ় মনোবল থাকলেই যে কেউ সাধারণ পটভূমি থেকে বৈশ্বিক সাফল্য অর্জন করতে পারে। আমার লক্ষ্য কেবল ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, জাতীয় উন্নয়নও।”
গালিবের গল্প প্রমাণ করে যে, দৃঢ় সংকল্প এবং অধ্যবসায় থাকলে সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী স্বপ্নও বাস্তব রূপ নিতে পারে।
