ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও দুর্নীতি ও অসহিষ্ণুতার বিরোধ

শনিবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত এক মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও একুশের চেতনার গুরুত্ব বর্ণনা করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, নির্বাহী পরিচালক, ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। তিনি তাঁর ভাষণে জোর দিয়ে বলেন যে, দুর্নীতি এবং ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা মূলত একুশের চেতনার সঙ্গে সম্পূর্ণ বিরোধী এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের সঙ্গে খাপ খায় না।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “একুশের চেতনা মানবাধিকার, সমতা ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতীক। আমাদের মৌলিক কর্তব্য হলো দেশের প্রতিটি নাগরিক সমান অধিকার ভোগ করবে তা নিশ্চিত করা। ধর্ম, লিঙ্গ, জাতি, ভাষা বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বৈষম্য গ্রহণযোগ্য নয়। যারা নারীর অধিকার, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, আদিবাসী, বা প্রতিবন্ধীদের অধিকার হরণ করছে, তারা সরাসরি একুশের মূল চেতনার বিপরীতে কাজ করছে। আমরা এমন আচরণকে দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করি।”

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এমন একটি জাতি হয়ে উঠতে পারে যেখানে একুশের চেতনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত—যেখানে সমান অধিকার, সামাজিক মর্যাদা, ন্যায় এবং সহাবস্থান নিশ্চিত থাকবে। তাঁর মতে, এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য সমাজের সব স্তরে দুর্নীতি ও অসাম্য দূর করা অপরিহার্য।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বক্তৃতায় সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “যতক্ষণ না নারীর, শিশুর, প্রতিবন্ধী, আদিবাসী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত হচ্ছে, ততক্ষণ একুশের মূল চেতনা সত্যিকারে পূর্ণ বাস্তবায়িত হবে না।”

তিনি বাংলাদেশে সমতা ও ন্যায় সম্পর্কিত কিছু গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সূচকের কথাও উল্লেখ করেন, যা দেশের অগ্রগতি ও বৈষম্য উভয়ই তুলে ধরে:

সূচকবর্তমান মানমন্তব্য
নারীর সাক্ষরতার হার৭২%শিক্ষায় লিঙ্গ ব্যবধান হ্রাস পেয়েছে
শিশু বেকারত্ব৩.৫%শিশু শ্রম হ্রাসে আরও পদক্ষেপ প্রয়োজন
ধর্মীয় সংখ্যালঘুর সংখ্যা৯%সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা অত্যাবশ্যক
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ৪৫%উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় আরও অন্তর্ভুক্তি দরকার
দুর্নীতি উপলব্ধি সূচক (টিআইবি)২৮/১০০স্বচ্ছতা বৃদ্ধির প্রয়োজন

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, “দুর্নীতি ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা রোধে সচেতনতা বৃদ্ধি সকলের যৌথ দায়িত্ব। সরকার, নাগরিক সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান একসাথে কাজ না করলে একুশের চেতনাকে পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত করা সম্ভব নয়।”

সভা সমাপ্তির আগে তিনি মন্তব্য করেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে স্বাধীনতা ও সমতার মূল্যবোধ প্রতিটি নাগরিকের জীবনে এবং সমাজের প্রতিটি স্তরে স্পন্দিত হবে। এটাই একুশের সারমর্ম—সমতার সঙ্গে ন্যায় প্রতিষ্ঠা।”