আনচেলত্তি ব্রাজিলকে নেতৃত্ব দেবেন ২০৩০ পর্যন্ত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের মাত্র কয়েক মাস আগে ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দল তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। দলটি তাদের বর্তমান প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি-কে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। আনচেলত্তিও এই প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন এবং কয়েক দিনের মধ্যেই চুক্তি আনুষ্ঠানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত গ্রীষ্মে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া আনচেলত্তির ইউরোপ ফেরার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। তবে ব্রাজিল ফেডারেশন (CBF) এর পদক্ষেপ সেই আলোচনাকে স্থগিত করেছে। ৬৬ বছর বয়সী এই কোচ ইতিমধ্যেই মৌখিক সমঝোতায় পৌঁছেছেন এবং আনুষ্ঠানিক চুক্তি হওয়ার পর ব্রাজিলের ইতিহাসে বিদেশি কোচ হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব নেওয়ার রেকর্ড গড়বেন।

২০৩০ বিশ্বকাপ হবে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো-তে, যেখানে গ্রুপ পর্বের কয়েকটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে উরুগুয়ে, আর্জেন্টিনা ও প্যারাগুয়ে-তে। নতুন চুক্তি আনুষ্ঠানিক হলে, আনচেলত্তি শুধু খেলার কৌশল নয়, দলের সংস্কৃতিতেও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

নতুন চুক্তির বিবরণ

বিষয়বিবরণ
দায়িত্বকাল২০২৬–২০৩০ বিশ্বকাপ
বার্ষিক বেতনপ্রায় ১ মিলিয়ন ইউরো
পারফরম্যান্স বোনাসপূর্বের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে
কাজের জায়গারিও ডি জেনেইরো ও ভ্যাঙ্কুভার (পরিবারের সঙ্গে সময় ভাগ)

সিবিএফ সভাপতি এদনালদো রদ্রিগেস মনে করেন, বিশ্বকাপের পর যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তা কমানোর জন্য এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত বছর ব্রাজিলের অবস্থা ছিল অস্থিতিশীল। কনমেবল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে দল চতুর্থ স্থানে ছিল। সাবেক কোচ দোরিভাল জুনিয়র বরখাস্ত হওয়ার পর আত্মবিশ্বাস হ্রাস পেয়েছিল। আনচেলত্তি দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম আট ম্যাচে চারটি জয়, দুটি ড্র ও দুটি হার দলের স্থিতিশীলতা ফিরিয়েছে। ‘কারলেত্তো ইফেক্ট’ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রদ্রিগো ও মিলিতাও-র সঙ্গে তার সুসম্পর্ক দলের মনোবল বৃদ্ধি করেছে।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে জুনে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা-তে শুরু হওয়া আসরে ব্রাজিল ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ খেলবে। এটি কোচ এবং দলের জন্য বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হবে।

লক্ষ্য: ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জেতা। সর্বশেষ তারা জিতেছিল ২০০২ সালে। আনচেলত্তির নেতৃত্বে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রূপায়ণ করলে ২০৩০ বিশ্বকাপেও দলের নেতৃত্ব দেওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।

এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে: ব্রাজিল শুধু একটি টুর্নামেন্টের জন্য নয়, ভবিষ্যতের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার জন্যও প্রস্তুত।