কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়াম আজ জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক স্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা নেতৃত্বে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জয়ের পথে একটি বড় চমক সৃষ্টি হয়। ম্যাচে জিম্বাবুয়ে শেষ চার বল হাতে রেখে ছয় উইকেটে জয় নিশ্চিত করে।
রাজার ব্যাট ও বল দুই দিকের পারফরম্যান্সই ম্যাচের প্রবল প্রভাব ফেলেছিল। ১৭৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৬ বলে ৪৫ রান করেন তিনি। এই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে দুটি চার ও চারটি ছক্কা। তার স্ট্রাইক রেট দাঁড়ায় ১৭৩.০৮।
বল হাতে চার ওভারে ৩৬ রান দেন রাজা, উইকেট না পেলেও রানের গতি যথেষ্টভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখেন। এই কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কার তাঁর হাতে ওঠে। এটি তার টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ২০তম ম্যাচসেরা পুরস্কার, যা পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে এক অনন্য মাইলফলক।
রাজা তার এই কীর্তি দিয়ে ভারতীয় তারকা সূর্যকুমার যাদবকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন। এছাড়া এই তালিকায় তৃতীয় স্থানে আছেন বিরাট কোহলি, আর শীর্ষে রয়েছেন মালয়েশিয়ার বীরানদিপ সিং ২২টি পুরস্কারের সঙ্গে।
প্রধান রেকর্ড ও তুলনামূলক তথ্য
| অধিনায়ক/খেলোয়াড় | ম্যাচসেরা পুরস্কারের সংখ্যা | বিশেষ কীর্তি | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| সিকান্দার রাজা | ২০ | পূর্ণ সদস্য দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ | সূর্যকুমার যাদবকে ছাড়িয়ে প্রথম |
| সূর্যকুমার যাদব | ১৯ | ভারতীয়দের মধ্যে সর্বাধিক | রাজার পরে দ্বিতীয় |
| বিরাট কোহলি | ১৮ | ভারতীয় তৃতীয় | স্থায়িত্ব ও ধারাবাহিকতা |
| বীরানদিপ সিং | ২২ | মালয়েশিয়ার শীর্ষ | আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ |
রাজা আরও একটি রেকর্ড গড়ে দিয়েছেন। আইসিসি ইভেন্ট ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি বয়সে অধিনায়ক হয়ে ম্যাচসেরা হওয়া ক্রিকেটারের তালিকায় তিনি শীর্ষস্থান অধিকার করেছেন। পূর্বে এই রেকর্ড রোহিত শর্মার দখলে ছিল।
তিনি এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বয়সী ম্যাচসেরা। শীর্ষে রয়েছেন সনৎ জয়াসুরিয়া, যিনি ২০০৯ সালে এই কীর্তি গড়েছিলেন। এছাড়া ৩৯ বছরের বেশি বয়সে ম্যাচসেরা হওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় আছেন শোয়েব মালিক, তিলকরত্নে দিলশান, ডেভিড ভিসা।
এই জয়ের ফলে জিম্বাবুয়ে দলের আত্মবিশ্বাস এবং রাজার নেতৃত্বের প্রশংসা পুরো ক্রিকেট বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপে এমন রেকর্ড-ভাঙা পারফরম্যান্স জাতীয় দল ও ভক্ত উভয়ের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
