বোনের বাড়িতে ইফতার দিয়ে ফেরার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ভাই

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় এক যুবক মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন। প্রায় দুই মাস আগে বিবাহিত ব্যবসায়ী বাদল মিয়া (৩৫) গত বৃহস্পতিবার বিকেলে বাছিরপুর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার বিবরণ

রমজানের প্রথম দিনে বাদল তাঁর শ্বশুরবাড়ি থেকে পরিবারের জন্য ইফতার সামগ্রী পাঠান। তিনি মোটরসাইকেলে সেই ইফতার সামগ্রী নিয়ে বড় বোনের বাড়িতে পৌঁছান। ফেরার পথে সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে বাছিরপুরের হেলাল উদ্দিনের বাড়ির সামনের সড়কে বিপরীতমুখী একটি পিকআপ ভ্যান তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।

ধাক্কায় বাদল মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে সিলেটের এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ নেওয়ার পথে বাদল মারা যান।

নিহতের পরিচিতি

বাদল মিয়া বাছিরপুর এলাকার মৃত মঙ্গল মিয়া এর ছেলে। প্যাকেটজাত খাদ্যসামগ্রীর স্থানীয় ডিলার হিসেবে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড চালাতেন। তিনি গত বছরের শেষ মাসে বিবাহিত হন।

পারিবারিক প্রতিক্রিয়া

বাদলের বড় ভাই মোরশেদ আলম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,

“ভাইটা ব্যবসা শুরুর পর বিয়ে করল। বিয়ের দুই মাসও শেষ হয়নি, চলে গেল। কীভাবে নিজেরে সান্ত্বনা দিই।”

বাদলের স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা রাতভর বিলাপ করেন। প্রতিবেশীরা তাদের সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

পুলিশের তথ্য

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিনহাজ উদ্দিন জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। স্বজনদের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

দুর্ঘটনার সময়সূচি

সময়ঘটনা
বিকেল ৫:৩০ইফতারি প্যাকেট শ্বশুরবাড়ি থেকে পাঠানো হয়
বিকেল ৫:৫০বাদল মোটরসাইকেলে ইফতারি নিয়ে বড় বোনের বাড়িতে পৌঁছান
সন্ধ্যা ৫:৪৫–৫:৫৫ফেরার পথে পিকআপ ভ্যান ধাক্কা দেয়
সন্ধ্যা ৬:০০গুরুতর আহত বাদল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি
রাত ৮:০০এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু
রাত ১০:০০পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর ও শোকাবহ পরিবেশ

বাদলের আকস্মিক মৃত্যু এলাকায় গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয়রা এখনও মানসিকভাবে সমবেদনা প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ও জনসাধারণ দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে সক্রিয় রয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন, যাতে ভবিষ্যতে সড়ক দুর্ঘটনা কমানো যায়।