সাঁথিয়ায় বিরোধে সংঘর্ষে নিহত এক , আহত পাঁচজন

পাবনার সাঁথিয়ায় দীর্ঘদিনের পূর্ববিরোধের জেরে দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষে আবদুল গফুর (৭০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের খয়েরবাড়িয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। একই ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ চারজনকে আটক করেছে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আবদুল গফুর ওই গ্রামের মৃত জসিম উদ্দিন প্রামাণিকের ছেলে। সূত্রের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার তাঁর ছেলে আলম ও একই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে ময়েন উদ্দিন (৪৫) টাকা ধার নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরেই বিরোধের সূত্রপাত হয়। আলমের দাবি, ময়েন পূর্বে ধার নেওয়া টাকা পরিশোধ করেননি। পুনরায় টাকা চাইলে ময়েন তা না দেওয়ায় ঘটেছে বাগবিতণ্ডা।

ঘটনার পর আজ দুপুরে ময়েন উদ্দিন কিছু লোকজন নিয়ে আলমের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এতে আবদুল গফুর, ময়েন উদ্দিন, আলমের পরিচিত মানিক হোসেন (৪৩), ময়ূরী খাতুন (৩৪) ও আরও কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল গফুরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মানিক হোসেনকে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ ঘটনার পর ময়েন উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী রেশমা খাতুন (৩৪), মানিক হোসেন ও সজিব হোসেন (২৫)কে আটক করেছে। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, “টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”

নিহতের ছেলে আলম দাবি করেছেন, তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে পাওনা টাকা ও বিরোধের জের ধরে। মারধরের ঘটনায় তাঁর বাবা প্রাণ হারিয়েছেন। তিনি দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

সংঘর্ষে আহত ও আটক ব্যক্তিদের তথ্য

নামবয়সঅবস্থামন্তব্য
আবদুল গফুর৭০মৃতনিহত
মানিক হোসেন৪৩গুরুতর আহতপাবনা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর
ময়েন উদ্দিন৪৫আহতপুলিশে আটক
ময়ূরী খাতুন৩৪আহতচিকিৎসাধীন
রেশমা খাতুন৩৪আহতপুলিশে আটক
সজিব হোসেন২৫আহতপুলিশে আটক

স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ঘটনার পর গ্রামে উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। সংঘর্ষের মূল কারণ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পারিবারিক ও আর্থিক বিরোধকে দায়ী করছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনা সাঁথিয়া উপজেলার খয়েরবাড়িয়া গ্রামের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সমস্যা এবং পারিবারিক বিরোধ কতটা মারাত্মক রূপ নিতে পারে, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।