চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভায় ৩ বছর বয়সী আল আমিন উদ্দীন নাহিয়ান নামের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নাসির মোহাম্মদ পাড়া এলাকায় এই দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত হয়। নিহত শিশু নাহিয়ান স্থানীয় ফুল ব্যবসায়ী মো. বেলাল উদ্দিনের একমাত্র সন্তান ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলের দিকে শিশুটিকে গোসল করানোর পর তার মা বাড়ির আঙিনায় কাপড় শুকাতে দেন। কিন্তু পরিবারের অগোচরে নাহিয়ান খেলাধুলার ছলে পাশের পুকুরের দিকে চলে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই শিশুটি পানিতে পড়ে তলিয়ে যায়। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি টের না পেলেও পরবর্তীতে পুকুরে শিশুটিকে ভেসে থাকতে দেখে দ্রুত উদ্ধার করেন। এরপর স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় এলাকার মানুষ গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রতিবেশীরা জানান, নাহিয়ান ছিল চঞ্চল, প্রাণবন্ত ও সবার প্রিয়। এমন হঠাৎ ও অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনায় পরিবারটি বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শোক প্রকাশ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর একটি বড় কারণ হলো পানিতে ডুবে মারা যাওয়া। বিশেষ করে গ্রামীণ ও আধা-শহুরে এলাকায়, যেখানে বাড়ির আশপাশে উন্মুক্ত পুকুর, ডোবা বা অন্যান্য জলাশয় রয়েছে, সেখানে শিশুদের নিরাপত্তা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। জনস্বাস্থ্য সংস্থা ও গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু পানিতে ডুবে মৃত্যুবরণ করে।
নিচের টেবিলে দেশের শিশুমৃত্যুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর সাধারণ চিত্র তুলে ধরা হলো—
| বিষয় | প্রাসঙ্গিক তথ্য (সাধারণ প্রবণতা) |
|---|---|
| ঝুঁকিপূর্ণ বয়স | ১–৫ বছর |
| দুর্ঘটনার স্থান | বাড়ির পাশের পুকুর/ডোবা |
| প্রধান সময় | দুপুর থেকে বিকেল |
| প্রধান কারণ | অসতর্কতা, অরক্ষিত জলাশয় |
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুদের এক মুহূর্তের জন্যও একা ফেলে না রাখা, বাড়ির চারপাশে পুকুর বা জলাশয়ে বেড়া দেওয়া, প্রাথমিক সাঁতার শেখানো এবং জীবনরক্ষাকারী কৌশল শিক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসন ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করাও অত্যন্ত জরুরি।
দোহাজারীর এই মর্মান্তিক ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, সামান্য অসতর্কতাও কত বড় বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে। নাহিয়ানের অকাল মৃত্যু শুধুমাত্র একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার জন্যই গভীর বেদনার। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন পরিবারের পাশাপাশি সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব।
