যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্যোক্তা বিল গেটস ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে নির্ধারিত মূল বক্তব্য প্রদান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। এ সিদ্ধান্তের পেছনে সম্প্রতি প্রকাশিত কিছু নথিতে তার নাম উল্লেখ হওয়াকে ঘিরে সৃষ্ট বিতর্ককে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট নথিগুলো কুখ্যাত ব্যক্তি জেফ্রি এপস্টিন–সংক্রান্ত তদন্তের অংশ।
বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন বৃহস্পতিবার সকালে এক বিবৃতিতে জানায়, সম্মেলনের মূল আলোচ্য বিষয়—কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা, নৈতিকতা ও উদ্ভাবন—যাতে অপ্রাসঙ্গিক বিতর্কে আচ্ছন্ন না হয়, সে লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গেটসের পরিবর্তে ফাউন্ডেশনের আফ্রিকা ও ভারত কার্যক্রমের সভাপতি অঙ্কুর ভোহরা সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
কর্মসূচি থেকে নাম অপসারণ ও পুনর্বহাল
সপ্তাহের শুরুতে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক বক্তার তালিকা থেকে গেটসের নাম সাময়িকভাবে সরিয়ে নেওয়া হয়। গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এপস্টিন-সংক্রান্ত মামলার ভুক্তভোগীদের প্রতি সংহতি জানাতে সতর্ক অবস্থান নিয়েছিল। তবে পরে তার নাম পুনর্বহাল করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য ছিল সম্মেলনকে প্রযুক্তিনির্ভর নীতিগত আলোচনায় সীমাবদ্ধ রাখা।
সম্মেলনের প্রেক্ষাপট ও অংশগ্রহণ
ভারত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রভাব সম্মেলন চলতি বছর চতুর্থবারের মতো আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগের তিনটি আয়োজন হয়েছিল যথাক্রমে যুক্তরাজ্য (২০২৩), দক্ষিণ কোরিয়া (২০২৪) এবং ফ্রান্স (২০২৫)-এ। এবারের সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| আয়োজক শহর | নয়াদিল্লি |
| অংশগ্রহণকারী দেশ | ২০টির বেশি |
| প্রধান নির্বাহী ও প্রতিষ্ঠাতা | ১০০ জনের বেশি |
| কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ ও প্রতিনিধি | ৫০০ জনের বেশি |
সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে সীমান্তপারের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো, নৈতিক সুরক্ষা ব্যবস্থা, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব এবং ঝুঁকি প্রশমন নীতি।
নথিপত্র ও বিতর্কের সূত্র
গত মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগ কিছু নথি প্রকাশ করে, যেখানে গেটসের নাম উল্লেখ রয়েছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল কারাগারে এপস্টিনের মৃত্যু হয়, যা কর্তৃপক্ষ আত্মহত্যা বলে ঘোষণা করে।
প্রকাশিত নথিতে একটি খসড়া বার্তার উল্লেখ রয়েছে, যাতে গেটসের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অভিযোগ আনা হয়। গেটস এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, উল্লিখিত বার্তাটি কখনো পাঠানো হয়নি। তিনি স্বীকার করেন যে ২০১১ সাল থেকে এপস্টিনের সঙ্গে তার কিছু যোগাযোগ ছিল, যা পরবর্তীতে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করেন। তবে তিনি দাবি করেন, এপস্টিনের ব্যক্তিগত দ্বীপে তিনি কখনো যাননি এবং কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না।
পর্যবেক্ষকদের মতে, গেটসের সরে দাঁড়ানো ছিল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যাতে সম্মেলনের নীতিগত ও প্রযুক্তিগত আলোচনা ব্যক্তিগত বিতর্কে ব্যাহত না হয় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থা নিয়ে বৈশ্বিক সংলাপ নির্বিঘ্নে এগিয়ে যেতে পারে।
