ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলো

বাংলাদেশের নতুন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও ভয়মুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকর্মীরা যেন কোনো ভয়, হুমকি বা রাজনৈতিক চাপের মধ্যে কাজ করতে না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার।”

গত মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পরপরই, বুধবার বেলা সোয়া একটায় সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তিনি তার কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

মন্ত্রী জানান, নিজের রাজনৈতিক জীবনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভয় ও চাপের মুখোমুখি হয়েছেন। সাংবাদিকদের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়ে তিনি বলেন, “যাঁরা ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে কাজ করেন, তাঁদের মানসিক চাপ এবং জটিল পরিস্থিতি আমরা ভালোভাবেই বুঝি। বিশেষ করে গণমাধ্যমের মতো পেশায় যারা সারাক্ষণ নজরদারির মধ্যে থাকেন, তাঁদের জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন।”

জহির উদ্দিন আরও জানান, সরকার ইতিমধ্যে সমস্যার মূল পর্যালোচনা করেছে। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বৃদ্ধির জন্য পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা সেই অনুযায়ী বাংলাদেশে সত্যিই ভয়মুক্ত সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি করব, ইনশা আল্লাহ।”

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রাথমিক লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে:

  • সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা

  • সুষ্ঠু সংবাদ পরিবেশ গঠন

  • মিডিয়ার স্বাধীনতা বৃদ্ধি

নিম্নের টেবিলটি নতুন মন্ত্রিসভার প্রধান দায়িত্ব ও সদস্যদের তথ্য সংক্ষেপে তুলে ধরেছে:

মন্ত্রিসভার পদমন্ত্রীর নামদায়িত্বের মূল ক্ষেত্র
প্রধানমন্ত্রীতারেক রহমানসরকার ও নীতি নির্ধারণ
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীজহির উদ্দিন স্বপনগণমাধ্যম নিরাপত্তা, তথ্য নীতি, সাংবাদিক সমর্থন
অর্থমন্ত্রীবাজেট, অর্থনৈতিক নীতি
শিক্ষা মন্ত্রীশিক্ষা নীতি ও উন্নয়ন
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীআইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা

নতুন মন্ত্রিসভার এই উদ্যোগ দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং স্বচ্ছতার মান আরও উন্নত করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সাংবাদিকরা নির্ভয়ে তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশন করতে পারবেন, যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরও দৃঢ় করবে।

সাংবাদিকদের ভয়মুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং তথ্যের স্বাধীনতা বৃদ্ধি এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা দেশের গণমাধ্যমকে একটি নতুন দিশা দিতে পারে।