ম্যারাডোনার রেকর্ড ভাঙা সম্ভব নয় মেসি-নেইমার-রোনালদোর

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। বিশ্বের চোখ এখন সবচেয়ে বড় ফুটবল আসরে, যেখানে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এমন কিছু রেকর্ড রয়েছে, যা বর্তমান সময়ের তারকাদের জন্য ভাঙা প্রায় অসম্ভব। এর মধ্যে অন্যতম আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার একটি বিশ্বকাপ রেকর্ড।

বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ফাউলের শিকার হওয়া খেলোয়াড় হলেন ম্যারাডোনা। ১৯৭০ সাল থেকে পরিসংখ্যান রাখা শুরু হওয়ার পর দেখা গেছে, চারটি বিশ্বকাপে (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০, ১৯৯৪) খেলায় তিনি মোট ১৫২টি ফাউলের শিকার হয়েছেন। মাত্র ২১ ম্যাচে তার গড় প্রতি ম্যাচে ছিল ৭.২৩টি ফাউল। এর মধ্যে ১৯৮৬ মেক্সিকো এবং ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপে এককভাবে ১০০টিরও বেশি ফাউলের শিকার হয়েছিলেন তিনি।

বর্তমান সময়ে এই তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে আছেন আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি। পাঁচটি বিশ্বকাপে ২৬ ম্যাচে তিনি ৭৫টি ফাউলের শিকার হয়েছেন, যেখানে গড় প্রতি ম্যাচে ২.৮৮টি ফাউল। এরপর তালিকায় রয়েছেন ব্রাজিলের দুই তারকা—জায়ারজিনহো (৬৪টি) এবং নেইমার (৬০টি)। পঞ্চম স্থানে আছেন পর্তুগালের ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, যিনি তিনটি বিশ্বকাপে ৫৮বার ফাউলের শিকার হয়েছেন।

নিচের টেবিলটি মূল তথ্য সংক্ষেপে দেখাচ্ছে:

খেলোয়াড়দেশবিশ্বকাপ সংখ্যাম্যাচমোট ফাউলগড় ফাউল/ম্যাচ
দিয়েগো ম্যারাডোনাআর্জেন্টিনা২১১৫২৭.২৩
লিওনেল মেসিআর্জেন্টিনা২৬৭৫২.৮৮
জায়ারজিনহোব্রাজিল২০৬৪৩.২
নেইমারব্রাজিল১৫৬০৪.০০
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোপর্তুগাল২২৫৮২.৬৩

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বর্তমান ফুটবল অনেক বেশি নিয়ন্ত্রিত, খেলোয়াড়দের সুরক্ষায় বড় গুরুত্ব দেওয়া হয় এবং ভিএআর প্রযুক্তির ব্যবহার আছে। ফলে ম্যারাডোনার মতো এত বেশি ফাউলের শিকার হওয়ার ঘটনা এখন খুবই কম। ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে ফুটবল ছিল শারীরিকভাবে শক্তিশালী এবং সংঘর্ষপূর্ণ।

২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গ্রুপ জে-তে থাকবে, যেখানে প্রতিপক্ষরা হল অস্ট্রিয়া, আলজেরিয়া ও জর্ডান। তাদের অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। পর্তুগাল গ্রুপ কে-তে, যেখানে প্রতিপক্ষ কলম্বিয়া, উজবেকিস্তান ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে-অফ বিজয়ী দল। ব্রাজিল গ্রুপ সি-তে থাকবে, যেখানে মরক্কো, হাইতি ও স্কটল্যান্ড তাদের প্রতিপক্ষ। তাদের খেলা শুরু হবে ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে।

তবে বড় প্রশ্ন খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ। লিওনেল মেসি এখনো নিশ্চিত করেননি খেলবেন কি না। নেইমার ইনজুরি থেকে পুরোপুরি সুস্থ হলে খেলবেন। রোনালদো ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন, তিনি খেলবেন, এবং এটি হতে পারে তার শেষ বিশ্বকাপ।

ম্যারাডোনার রেকর্ড এতটাই অদম্য যে মেসি, নেইমার বা রোনালদোদের জন্য তা ভাঙা সত্যিই কঠিন, হয়তো তা ফুটবল ইতিহাসে চিরদিন অটুট থাকবে।