প্রতি বছর মুসলিম সম্প্রদায় উদগ্রীবভাবে অপেক্ষা করে পবিত্র রমজান মাসের আগমনের জন্য। রমজান হলো এক মাস দীর্ঘ উপবাস (সাওম) এবং ইবাদত–আত্মশুদ্ধির সময়। এ মাসের সঠিক সূচনা নির্ধারণ করা হয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব এবং প্রথাগত চাঁদ দেখা (হিলাল) পদ্ধতির মাধ্যমে।
বাংলাদেশে এই বছরের রমজান সম্ভবত শুরু হবে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি অথবা শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি। মূলত সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে রমজান শুরু হলে, প্রতিবেশী দক্ষিণ এশীয় দেশগুলো—বিশেষ করে বাংলাদেশ—পরের দিন রমজান পালন শুরু করে। যদি মাসটি ৩০ দিন স্থায়ী হয়, তবে ঈদুল ফিতর পড়বে শনিবার, ২১ মার্চ।
বাংলাদেশ ও ভারতের মুসলিম সম্প্রদায় রমজান শুরু নির্ধারণের জন্য চাঁদ দেখা প্রথা অনুসরণ করে। শাবান মাসের ২৯তম রাতে স্থানীয় চাঁদ দেখা কমিটিগুলো সন্ধ্যার পর আকাশ পর্যবেক্ষণ করে। যদি নতুন চাঁদের চিহ্ন দেখা যায়, তবে পরের দিন রমজান শুরু হবে; নাহলে শাবান পূর্ণ ৩০ দিন সম্পন্ন করবে এবং রমজান শুরু হবে পরবর্তী দিন।
জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক হিসাব অনুযায়ী, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন চাঁদ গণিত অনুযায়ী থাকবে। তবে প্রকৃত দৃশ্যমান হিলাল সম্ভবত বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি দেখা যাবে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে রোজা শুরু হতে পারে বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি; তবে যেখানে চাঁদ আগে দেখা যায়, সেসব অঞ্চলে রমজান শুরু হতে পারে বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থানের উপর। শাওয়াল চাঁদ দেখা অনুযায়ী, রমজান ৩০ দিনের পর শেষ হবে, ১৯ বা ২০ মার্চ।
প্রতি বছর বাংলাদেশ চাঁদ দেখা কমিটি এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রমজানের সূচনা অফিসিয়ালি ঘোষণা করে। ঘোষণার পর সারা দেশে মুসলিম সম্প্রদায় তাদের দৈনন্দিন রোজা পালন শুরু করে, নামাজ আদায় এবং ইবাদতে নিয়ত বৃদ্ধি করে।
বাংলাদেশে সম্ভাব্য রমজানের সময়সূচি
| তারিখ | বাংলাদেশে কার্যক্রম | মন্তব্য / পর্যবেক্ষণ |
|---|---|---|
| ১৮ ফেব্রুয়ারি | সম্ভাব্য চাঁদ দেখা | সৌদি আরবের সময় অনুযায়ী প্রাথমিক হিসাব |
| ১৯ ফেব্রুয়ারি | প্রধান সম্ভাব্য রমজানের প্রথম দিন | চাঁদ দেখা কমিটি এবং গণনার ভিত্তিতে নির্ধারিত |
| ২০ ফেব্রুয়ারি | বিকল্প প্রথম দিন | কিছু অঞ্চলে চাঁদ আগে দেখা গেলে প্রয়োগ হবে |
| ২১ মার্চ | সম্ভাব্য ঈদুল ফিতর | শাওয়াল চাঁদ দেখা অনুযায়ী অনুমান |
বাংলাদেশে প্রথাগত চাঁদ দেখা এবং আধুনিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গণনার সমন্বয়ে রমজানের সঠিক সূচনা এবং ঈদের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এটি শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় প্রথা রক্ষা করে দেশজুড়ে সঠিক পরিকল্পনার নিশ্চয়তা দেয়।
