দেশের শেয়ারবাজারে টানা বড় উত্থানের পর কিছুটা স্তিমিত হয়েছে সূচকের গতি। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে। যার ফলে আগের দিনের বিশাল উল্লম্ফনের পর আজ কিছুটা মূল্য সংশোধন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, টানা কয়েক দিনের দাম বাড়ার পর বিনিয়োগকারীদের এই আচরণ একটি স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর বাজারের লক্ষণ।
Table of Contents
ডিএসই ও সিএসইর বাজার চিত্র
দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ দিন শেষে ১১ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। উল্লেখ্য যে, গতকাল রোববার নির্বাচন-পরবর্তী প্রথম কার্যদিবসে এই সূচকটি এক দিনেই ২০১ পয়েন্ট বা প্রায় পৌনে ৪ শতাংশ বেড়েছিল। সূচকের পাশাপাশি আজ লেনদেনের গতিও সামান্য কমেছে। ডিএসইতে আজ ১ হাজার ২৫৭ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৮ কোটি টাকা কম।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচকটি ৭ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। সিএসইতে আজ মাত্র ১৪ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ১১ কোটি টাকা কম।
বাজারের লেনদেন ও সূচকের একটি তুলনামূলক চিত্র নিচে দেওয়া হলো:
| সূচক ও লেনদেন | ডিএসই (১৬ ফেব্রুয়ারি) | ডিএসই (১৫ ফেব্রুয়ারি) | পরিবর্তন |
| প্রধান সূচক (DSEX) | ৫,৫৯০ পয়েন্ট | ৫,৬০১ পয়েন্ট | -১১ পয়েন্ট |
| মোট লেনদেন (টাকায়) | ১,২৫৭ কোটি | ১,২৭৫ কোটি | -১৮ কোটি |
| দর বৃদ্ধি পাওয়া শেয়ার | ১৫৩টি | ৩৪৪টি | -১৯১টি |
| দর হ্রাস পাওয়া শেয়ার | ২১৮টি | ৪১টি | +১৭৭টি |
| অপরিবর্তিত শেয়ার | ২৬টি | ১২টি | +১৪টি |
বাজার বিশ্লেষণে ১০ শীর্ষ কোম্পানির প্রভাব
লঙ্কাবাংলা সিকিউরিটিজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ বাজারে সূচক পতনের নেপথ্যে ছিল বড় মূলধনী ও ভালো মৌলভিত্তির কিছু কোম্পানি। এর মধ্যে গ্রামীণফোন, ব্র্যাক ব্যাংক এবং বেক্সিমকো ফার্মার মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম কমায় সূচকে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তবে এর বিপরীতে স্কয়ার ফার্মা ও ন্যাশনাল ব্যাংকের মতো শেয়ারের দাম বাড়ায় সূচকের পতন বড় আকার ধারণ করতে পারেনি।
সূচক ওঠানামায় প্রভাব বিস্তারকারী প্রধান কোম্পানিগুলো হলো:
সূচক কমাতে ভূমিকা রাখে: গ্রামীণফোন, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, রেনাটা, ব্র্যাক ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক, ও আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক।
সূচক ধরে রাখতে ভূমিকা রাখে: স্কয়ার ফার্মা, ন্যাশনাল ব্যাংক, আইএফআইসি, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ও লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স।
রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও শেয়ারের গতিবিধি
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রভাব শেয়ারের দামেও প্রতিফলিত হচ্ছে। বিএনপি নেতাদের মালিকানাধীন ন্যাশনাল ব্যাংক, কেঅ্যান্ডকিউ এবং দুলামিয়া কটনের শেয়ারের দাম আজ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের দাম সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ইবনে সিনা ফার্মার শেয়ারের দামও আজ ২ শতাংশ বেড়েছে, যদিও ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের দাম সামান্য কমেছে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত
ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী জানান, “আগের দিনের বিশাল উত্থানের পর আজকের এই মূল্য সংশোধন খুবই স্বাভাবিক। অনেক বিনিয়োগকারী এক শেয়ার থেকে মুনাফা তুলে নিয়ে অন্য শেয়ারে বিনিয়োগ স্থানান্তর করেছেন। তবে লেনদেন এক হাজার কোটি টাকার ওপরে থাকাটা বাজারের জন্য ইতিবাচক সংকেত।” তিনি আরও যোগ করেন যে, বাজারে অনেক নতুন এবং পূর্বে নিষ্ক্রিয় থাকা বিনিয়োগকারীরা পুনরায় সক্রিয় হচ্ছেন, যা দীর্ঘমেয়াদে বাজারের গভীরতা বাড়াবে।
