খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৮ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের পশ্চিম দক্ষিণ ফিলিপনগর গ্রামে সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে দীর্ঘদিনের বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল গোলাগুলি সংঘটিত হয়। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ঘটনায় তিনজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে।
স্থানীয়রা জানান, এলাকার পুরনো বিরোধ ও পূর্বশত্রুতির জেরেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা খোলামেলা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং উভয় পক্ষ একে অপরের দিকে গুলি চালাতে থাকে। গুলির শব্দে পুরো এলাকা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পড়ে। প্রাথমিকভাবে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে জরুরি চিকিৎসা প্রদান করে। পরে তাদের দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ঘটনায় আহত তিনজনের তথ্য নিম্নরূপ:
| নাম | বয়স | অবস্থান/সম্পর্ক |
|---|---|---|
| আনিচুর রহমান | ৫৫ | স্থানীয় বাসিন্দা |
| নবাব মাস্টার | – | স্থানীয় শিক্ষক |
| আশরাফুল ইসলাম | – | স্থানীয় বাসিন্দা |
স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ঘটনাটি শুরু হয়েছিল আনিচুর রহমানের বাড়ির টিন চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রতিশোধ ও উত্তেজনার ফলেই উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি সংঘটিত হয়।
স্থানীয়দের ধারণা, সংঘর্ষে অন্তত ১২–১৩ জন জড়িত ছিলেন। উল্লেখযোগ্য কিছু অভিযুক্তের নাম ও পরিচয়:
| নাম | পিতা/পরিচয় | বয়স |
|---|---|---|
| রিন্টু | ময়জুদ্দিন দফাদার | ২৬ |
| দোয়েল | সোহরাব | ২৫ |
| সিহাব | তুয়বুদ্দি | ৫০ |
| জালাল | – | – |
স্থানীয়রা আরও ৮–১০ জনের অভিযুক্ত থাকার সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তবে অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, “পূর্ব শত্রুতির কারণে গোলাগুলি হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি এবং লিখিত অভিযোগও দায়ের হয়নি। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন সতর্কতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এলাকাবাসীর আশা, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরায় ঘটবে না।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এই ঘটনা প্রাচীনভাবে বিরোধপূর্ণ সম্পর্কের একটি উদাহরণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে সামান্য ঘটনার কারণে বড় ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হতে পারে। স্থানীয়দের মতে, সামাজিক ঐক্য ও সমঝোতার অভাবে ছোটখাট বিষয়ও বড় সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে।
মন্তব্য