গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক শিক্ষাবিদ শামিকুল ইসলাম (৬০) রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি ভাঙচুর ও মারামারির একটি মামলায় গাইবান্ধা জেলা কারাগারে বন্দী ছিলেন।
গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেল সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, গত ১৮ অক্টোবর শামিকুল ইসলাম কারাগারে আসেন। তাঁর আগে থেকেই হৃদ্রোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিসের সমস্যা ছিল। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে ছিলেন বলে দাবি করেন জেল সুপার।
কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে তাঁকে প্রথমে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে রাতেই রংপুরে পাঠানো হয়।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদ্রোগ বিভাগের প্রধান ডা. হরিপদ সরকার জানান, দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে শামিকুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভর্তি সময় তাঁর শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা ছিল। নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হলেও রাত ৩টা ৫০ মিনিটে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। চিকিৎসকদের প্রাথমিক ধারণা, তীব্র হৃদ্রোগজনিত জটিলতার কারণেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে চূড়ান্ত কারণ ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত হবে।
রবিবার বেলা ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমাল আজাদের উপস্থিতিতে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
শামিকুল ইসলামের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি ও আইনি অবস্থার সারসংক্ষেপ নিচে দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| নাম | শামিকুল ইসলাম |
| বয়স | ৬০ বছর |
| ঠিকানা | বৈরীহরিণমারী, পলাশবাড়ী পৌর শহর, গাইবান্ধা |
| পেশা | উপাধ্যক্ষ, পলাশবাড়ী মহিলা কলেজ |
| রাজনৈতিক পরিচয় | সভাপতি, পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগ |
| কারাগারে প্রবেশ | ১৮ অক্টোবর |
| পূর্ববর্তী শারীরিক সমস্যা | হৃদ্রোগ ও অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস |
| মৃত্যুর সময় | ভোর ৩টা ৫০ মিনিট (রোববার) |
| মৃত্যুর স্থান | রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল |
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শামিকুল ইসলাম পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরীহরিণমারী এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত আবদুর জব্বার সরকারের ছেলে। দীর্ঘদিন তিনি পলাশবাড়ী মহিলা কলেজে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্থানীয় শিক্ষা ও রাজনীতিতে তিনি পরিচিত মুখ ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়। ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর একটি মামলায় ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার হয়ে দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। পরে জামিন পেলেও আরেক মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
তাঁর মৃত্যু নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত চিকিৎসা নিশ্চিত করা হয়েছিল এবং অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে স্থানান্তর করা হয়। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গভীরভাবে তদন্তের দাবি তোলা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন প্রকাশের পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যাবে। ততক্ষণ পর্যন্ত বিষয়টি প্রশাসনিক ও চিকিৎসা পর্যায়ে গুরুত্বসহকারে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
