সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্প্রতি একাধিক যৌথ অভিযান চালিয়েছে, যার লক্ষ্য ইসলামিক স্টেট (আইএসআইএল) সংস্থার অবশিষ্ট শক্তি দমন করা। এই অভিযান মূলত গত বছরের একটি ঘটনায় দুই মার্কিন সেনা ও একজন দোভাষীর নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) গত শনিবার প্রকাশিত বিবৃতিতে জানিয়েছে, ৩ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সিরিয়ায় আইএসআইএলের ৩০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। এসব আঘাত অত্যাধুনিক নির্ভুল অস্ত্রের মাধ্যমে সংগঠনের অস্ত্রভাণ্ডার, প্রশিক্ষণ ক্ষেত্র এবং অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করেছে। সেন্টকমের ভাষ্য, এই অভিযান “সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের ওপর অব্যাহত সামরিক চাপ” বজায় রাখতে নেওয়া হয়েছে।
গত বছরের ডিসেম্বরে সিরিয়ার ঐতিহাসিক শহর পালমিরার কাছে আইএসআইএল হামলার সময় তিনজন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। নিহতরা হলেন:
সার্জেন্ট এডগার ব্রায়ান তোরেস-তোভার
সার্জেন্ট উইলিয়াম নাথানিয়েল হাওয়ার্ড
বেসামরিক দোভাষী আয়াদ মনসুর সাকাত
এই হত্যার প্রতিশোধ হিসেবে শুরু করা ‘অপারেশন হকআই’ অভিযানে দুই মাসের মধ্যে ৫০-এরও বেশি আইএসআইএল যোদ্ধা নিহত বা আটক হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১০০টি অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট সম্প্রতি সিরিয়ার হাজারো আইএসআইএল বন্দিকে ইরাকে স্থানান্তর করেছে। বাগদাদের অনুরোধে তাদের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য সেখানে পাঠানো হয়েছে। জোট এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আল-তানফ সামরিক ঘাঁটির নিয়ন্ত্রণ এখন সরকারি বাহিনীর হাতে এসেছে। বহু বছর ধরে আইএসআইএলবিরোধী লড়াইয়ে এই ঘাঁটি মার্কিন বাহিনী ব্যবহার করেছিল।
২০১৯ সালে সিরিয়ায় আইএসআইএলের আঞ্চলিক পরাজয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের (এসডিএফ) সঙ্গে যৌথভাবে অভিযান চালিয়েছিল। তবে বর্তমানে ওয়াশিংটন সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে এসডিএফের সঙ্গে যৌথ অভিযান অনেকটাই সীমিত হয়েছে।
সামরিক অভিযানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
| তারিখ | অভিযান/হামলা | লক্ষ্যবস্তু সংখ্যা | ফলাফল |
|---|---|---|---|
| ৩–১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | মার্কিন বিমান হামলা | ৩০+ | অস্ত্রভাণ্ডার ও অবকাঠামো ধ্বংস |
| ডিসেম্বর ২০২৫ | পালমিরা হামলা প্রতিশোধ | ১০০+ | ৫০+ যোদ্ধা নিহত বা আটক |
| সাম্প্রতিক | আইএসআইএল বন্দি স্থানান্তর | হাজারো | ইরাকে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য স্থানান্তর |
মার্কিন প্রশাসন এই ধারাবাহিক অভিযানকে আইএসআইএলের অবশিষ্ট শক্তি দুর্বল করার পাশাপাশি সিরিয়ার নতুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় ও নিরাপত্তা বজায় রাখার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। অভিযানগুলো সন্ত্রাসবিরোধী প্রচেষ্টাকে ক্রমাগত শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
