বিসিবি সভাপতি আমিনুলের ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত

বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ধ্রুপদী লড়াই হিসেবে পরিচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচকে কেন্দ্র করে মাঠের উত্তাপ এখন মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে ‘অন্যায়ভাবে’ বাদ দেওয়ার অভিযোগে পাকিস্তান সরকার এই ম্যাচটি বর্জন করার হুমকি দিয়েছিল। দীর্ঘ নাটকীয়তা ও আলোচনার পর পাকিস্তান খেলতে রাজি হলেও, নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি আমিনুল ইসলাম। নিজ দেশ বিশ্বকাপে না থাকায় তিনি এই মেগা ইভেন্টটি মাঠে বসে না দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইসিসির মধ্যস্থতা

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে ঘিরে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে লাহোরে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ত্রিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলার জন্য অনুরোধ জানান আমিনুল ইসলাম। মূলত তার এবং আইসিসির ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে রাজি হয়। আইসিসি চেয়েছিল এই ম্যাচের মাধ্যমে এশিয়ার ক্রিকেট শক্তিগুলোর মধ্যে বিদ্যমান দূরত্ব কমিয়ে আনতে। সেই লক্ষ্যে এশিয়ার পাঁচটি টেস্ট খেলুড়ে দেশের বোর্ড প্রধানদের কলম্বোর প্রেমেদাসা স্টেডিয়ামে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল।

আমিনুলের অনুপস্থিতি ও বিসিবির অবস্থান

বিসিবি সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য ভারত-পাকিস্তান ম্যাচটি দেখতে কলম্বো যাচ্ছেন না। কুয়েতে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভা শেষ করে তিনি ইতিমধ্যে দেশে ফিরেছেন। যদিও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো ফিরতি বার্তা পাওয়া যায়নি। তবে তার ঘনিষ্ঠদের মতে, নিজেদের দল অর্থাৎ বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করায় আবেগগত কারণেই তিনি অন্য দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াই দেখতে যেতে আগ্রহী নন।

নিচে আগামীকালের ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি ও সম্ভাব্য পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো:

ব্যক্তিত্বপদমর্যাদাউপস্থিতি নিশ্চিত কি না?
জয় শাহপ্রধান, আইসিসিহ্যাঁ
মহসিন নাকভিপ্রধান, পিসিবিহ্যাঁ
শাম্মি সিলভাপ্রধান, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটহ্যাঁ (আয়োজক)
আমিনুল ইসলামসভাপতি, বিসিবিনা (ব্যক্তিগত কারণে বিরত)
রজার বিন্নিসভাপতি, বিসিসিআইহ্যাঁ

আইসিসির প্রতিশ্রুতি ও কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশকে এবারের বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার প্রেক্ষাপটে আইসিসি কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিয়েছে। লাহোর বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, এই ঘটনার জন্য বিসিবিকে কোনো আর্থিক জরিমানা করা হবে না। বরং ক্ষতিপূরণ ও সান্ত্বনা স্বরূপ ভবিষ্যতে বাংলাদেশে একটি বড় আইসিসি ইভেন্ট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তবে ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, কলম্বোয় উপস্থিত থাকা আমিনুল ইসলামের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক সুযোগ হতে পারত। বিসিসিআই এবং আইসিসি প্রধানদের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় স্বার্থ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তিনি হারালেন বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতের ক্রিকেট বোর্ডের সাথে বর্তমানে বিসিবির যে শীতল সম্পর্ক বিরাজ করছে, তার বরফ গলাতে এই ধরণের হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে। আমিনুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন এবং আপাতত ঘরোয়া ক্রিকেটের প্রশাসনিক কাজেই মনোনিবেশ করছেন বলে জানা গেছে।