গাইবান্ধায় এক আইনজীবীর সহকারীকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, যা স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৮টায় সদর উপজেলার বাল্লমঝাড় ইউনিয়নের খামার বাল্লমঝাড় গ্রামে নিজের বাড়িতে এই নৃশংস ঘটনার শিকার হন ৪০ বছর বয়সী অমিতাভ চন্দ্র সুজন, যিনি জেলা জজ কোর্টে সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সুজন বাড়ির উঠানে অবস্থানকালে কিছু মুখোশধারী দুর্বৃত্ত জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে লক্ষ্য করে machete দিয়ে হামলা চালায়। হামলাকারীরা তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে বারবার আঘাত করে। পরিবারের সদস্যরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তিনি মারা যান।
সুজন তার পিতা-মাতা, স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে স্থানীয় এলাকায় বসবাস করতেন। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘ তিন থেকে চার বছর ধরে স্থানীয় এক বাসিন্দা নরেশ চন্দ্রের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধে জড়িত ছিলেন। পরিবার অভিযোগ করেছে যে, নরেশ সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাকে হুমকি দিচ্ছিলেন, যা ইঙ্গিত দেয় যে এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত এবং চলমান বিরোধের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন নিশ্চিত করেছেন যে, অভিযোগ দায়েরের কিছু সময় পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি machete উদ্ধার করেছে। সুজনের মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীরা হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ, অভিযুক্তদের শনাক্তকরণ এবং গ্রেফতারের জন্য তৎপর রয়েছেন, এবং এই ঘটনায় এখন আনুষ্ঠানিক তদন্ত চলছে।
নিম্নলিখিত টেবিলে ঘটনার মূল তথ্যগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
| তথ্যের ধরন | বিবরণ |
|---|---|
| নিহতের নাম | অমিতাভ চন্দ্র সুজন (৪০) |
| পেশা | জেলা জজ কোর্টের সহকারী |
| ঠিকানা | খামার বাল্লমঝাড়, বাল্লমঝাড় ইউনিয়ন, গাইবান্ধা |
| তারিখ ও সময় | ১৩ ফেব্রুয়ারি, সন্ধ্যা ৮টা |
| হামলার ধরন | কুড়াল দিয়ে আঘাত |
| সন্দেহভাজন | নরেশ চন্দ্র (জমি বিরোধের সঙ্গে সম্পর্কিত) |
| তদন্তকারী থানা | গাইবান্ধা সদর থানা |
| মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য | গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল মর্গ |
স্থানীয়রা এই হত্যাকাণ্ডকে “ভীতিকর” এবং জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। তারা এলাকায় নিরাপত্তার অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কর্তৃপক্ষ দ্রুত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের শাস্তির জন্য কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ড শুধু সুজনের পরিবারকে কাঁপিয়ে দেয়নি, বরং গাইবান্ধার নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও গভীর ছায়া ফেলেছে। স্থানীয় মানুষজন এখন আরও সতর্ক, এবং পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ রয়েছে যেন তারা আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং এমন নৃশংস ঘটনা পুনরায় না ঘটতে দিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেন।
এই হত্যাকাণ্ডের পর গাইবান্ধা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি এবং নজরদারি বৃদ্ধি পেয়েছে, যাতে এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
