গাজীপুরে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ

গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় দলীয় কার্যালয় দখলকে কেন্দ্র করে Bangladesh Nationalist Party (বিএনপি)-র দুই প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষের মধ্যে গভীর রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত প্রায় ১২টা ৩০ মিনিটে এ ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত কয়েকজন কর্মী আহত হন এবং দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত একটি অস্থায়ী স্থাপনা ব্যাপক ভাঙচুরের শিকার হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি খাসজমির ওপর নির্মিত একটি টিনশেড ঘরকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। দীর্ঘদিন ধরে একটি পক্ষ ওই স্থাপনা ব্যবহার করে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, সভা-সমাবেশের প্রস্তুতি এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমন্বয় করছিল। তবে জমিটির কোনো সরকারি ইজারা বা বৈধ বরাদ্দ ছিল না বলে অভিযোগ রয়েছে, যা পুরো বিষয়টিকে আইনি প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলাল লস্করের নেতৃত্বাধীন একটি দল গভীর রাতে কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নিতে গেলে টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল লস্করের সমর্থকেরা বাধা দেন। প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হলেও তা দ্রুত হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ সময় চেয়ার-টেবিল, ব্যানার ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয়। আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

মোজাম্মেল লস্কর দাবি করেন, এলাকায় পূর্বে কোনো স্থায়ী দলীয় কার্যালয় ছিল না এবং তার উদ্যোগেই এটি গড়ে তোলা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বেলাল লস্কর ঘনিষ্ঠ নেতারা দাবি করেছেন, সরকারি খাসজমি ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা থেকেই বিরোধের সৃষ্টি।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান জানান, এক পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রাথমিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার সারসংক্ষেপ

বিষয়তথ্য
স্থানসাতাইশ এলাকা, টঙ্গী, গাজীপুর
সময়শুক্রবার রাত প্রায় ১২:৩০
বিরোধের কারণসরকারি খাসজমিতে নির্মিত দলীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ
সংশ্লিষ্ট পক্ষবেলাল লস্কর গ্রুপ বনাম মোজাম্মেল লস্কর গ্রুপ
হতাহতকয়েকজন কর্মী আহত
আইনি অবস্থালিখিত অভিযোগ; তদন্ত চলমান

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় পর্যায়ে দলীয় প্রভাব, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে এ ধরনের অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রায়ই দেখা যায়। তবে সরকারি জমিতে অনুমোদনবিহীন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপকে অনিবার্য করে তুলতে পারে। ফলে বিষয়টি কেবল দলীয় শৃঙ্খলার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আইনি প্রক্রিয়ায়ও গড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।