যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে তিনি খুব শীঘ্রই ভেনেজুয়েলা সফর করবেন এবং সেখানে বিপুল তেলসম্পদ সম্পর্কিত ব্যাপক যৌথ ব্যবস্থাপনা ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে কাজ করবেন। এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক সংকট, আর্থ‑রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও তেলবাজার নিয়ন্ত্রণের প্রেক্ষাপটে।
ট্রাম্প শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সাথে বক্তব্যে বলেন, তিনি ভেনেজুয়েলায় যাবেন, তবে সঠিক তারিখ এখনও নিশ্চিত হয়নি। তিনি বলেছেন, “আমাদের সম্পর্ক এখন খুব ভাল, আমি এটিকে দশ’র মধ্যে দশ অঙ্কে রেট করি।”
এবারের ঘোষণা আসে এমন এক অবস্থায় যখন ভেনেজুয়েলার প্রথম নেতা নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে নেশা ও ইয়াবা পাচারের অভিযোগে মামলা চলছে, এবং দেশটিতে একটি ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ কাজ করছে, যাকে যুক্তরাষ্ট্র স্বীকৃতি দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে তেলসম্পদ সম্পর্কিত কিছু মূল তথ্য নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| সম্পদ বা বিষয় | আনুমানিক পরিমাণ / বা অবস্থা |
|---|---|
| বিশ্বের সর্বাধিক প্রমাণিত তেল রিজার্ভ | প্রায় ৩০০ বিলিয়ন ব্যারেল (গ্লোবাল মোটের প্রায় ১৭%) |
| ২০২৫ সালে উৎপাদন | প্রায় ১.২ মিলিয়ন ব্যারেল/দিন |
| পেট্রোলিয়েবল আইন সম্পর্কিত পরিবর্তন | নতুন আইন স্বীকৃতি পেয়েছে, যেখানে বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগে সুযোগ বাড়ানো হয়েছে |
| যুক্তরাষ্ট্রের নীতি | তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা সহজ করা ও পয়সা যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত অ্যাকাউন্টে রাখতে অনুমতি |
ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি কারচাসে যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী শক্তি সচিবকে পাঠিয়েছে, যিনি ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের পুনরুদ্ধার ও বিনিয়োগের সুযোগ যাচাই করেছেন। তিনি বলেন, এই নতুন উদ্যোগের ফলে তেল বিক্রয় থেকে আগের মতো বড় আয় প্রায় $১ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে এবং আগামী মাসগুলোতে সম্ভাব্য আয় $৫ বিলিয়ন পৌঁছাবার সম্ভাবনা রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগ BP, Chevron, Eni, Shell ও Repsolসহ বড় আন্তর্জাতিক তেল কোম্পানিগুলোকে বিশেষ অনুমোদন দিয়েছে যাতে তারা ভেনেজুয়েলার তেল ও গ্যাস খাতে ব্যবসা করতে পারে, তবে রাশিয়া, চীন ও ইরান সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদরিগেজ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তারা কোনও সার্বভৌমত্ব বিক্রি করেনি এবং এই সব চুক্তি ভেনেজুয়েলার দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনে সহায়ক হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর ও যৌথ তেল ব্যবস্থাপনা কৌশল আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্ক করে দিয়েছেন যে এমন ধরণের ব্যাবস্থা সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন বিষয়ক জটিল প্রশ্ন তুলতে পারে, তবে অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে পারে।
সংক্ষেপ: ট্রাম্পের সম্ভাব্য ভেনেজুয়েলা সফর এবং তেলসম্পদ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যৌথ নীতি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক গুরুত্বসহকারে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেও এটা স্পষ্ট যে সমৃদ্ধ তেলখাতের কারণে ভেনেজুয়েলা বিশ্ব শক্তি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এবং এই সফর সেই ভূমিকা আরো শক্তিশালী করতে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হবে।
