খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৬:৮ এএম

টাঙ্গাইল পৌর শহরে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে শহরের বটতলা নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন টাঙ্গাইল শহরের ছোটকালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা স্বাধীন এবং ফাহিম। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারসহ পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত স্বাধীন ও ফাহিম শুক্রবার রাতে মোটরসাইকেল যোগে শহর থেকে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। তারা যখন টাঙ্গাইল পৌর শহরের বটতলা এলাকায় পৌঁছান, তখন মোটরসাইকেলটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। দ্রুত গতিতে থাকা মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা একটি শক্ত দেয়ালের সাথে সজোরে ধাক্কা খায়। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, দুই যুবকই ছিটকে পড়ে মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা রক্তাক্ত অবস্থায় দুই যুবককে উদ্ধার করে কালক্ষেপণ না করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং মাথায় গুরুতর আঘাতই তাদের মৃত্যুর প্রধান কারণ।
নিচে দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| বিষয় | বিবরণ |
| দুর্ঘটনার সময় | শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি), রাত ১১:০০ টা |
| দুর্ঘটনার স্থান | বটতলা এলাকা, টাঙ্গাইল পৌর শহর |
| নিহতদের পরিচয় | স্বাধীন ও ফাহিম (উভয়ই ছোটকালিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা) |
| দুর্ঘটনার ধরণ | মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দেয়ালে ধাক্কা |
| হাসপাতালের নাম | টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল |
টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের পুলিশ বক্সের ইনচার্জ আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরার পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। তিনি আরও জানান, দুই জনের মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, স্বাধীন ও ফাহিম দুজনই খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। তাদের এই আকস্মিক মৃত্যুতে ছোটকালিবাড়ি এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, রাতে শহরের রাস্তাগুলো ফাঁকা থাকায় অনেক সময় মোটরসাইকেলের গতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়ে, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
টাঙ্গাইলের এই দুর্ঘটনাটি আবারও সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে রাতে দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা এবং হেলমেট ব্যবহারের অনীহা প্রায়ই এ ধরনের প্রাণহানির কারণ হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও যান্ত্রিক ত্রুটি বা অসতর্কতার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারানো মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা কমছে না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে চালকদের সচেতনতা এবং ট্রাফিক আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য