জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সমাপ্তির পর, বাংলাদেশ ব্যাংক ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ সকল মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় পূর্ববর্তী সীমাবদ্ধতা তুলে নিল। নির্বাচনকালীন টাকার অপব্যবহার রোধে ৯ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, তা অচিরেই বাতিল করা হলো।
সীমাবদ্ধতার সময়কালে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পারস্পরিক (P2P) লেনদেন প্রতি ট্রানজেকশনে সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা এবং দিনে সর্বোচ্চ ১০টি লেনদেনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে ব্যবসায়িক লেনদেন ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে কোনো বাধা ছিল না।
ঢাকা ট্রিবিউন জানিয়েছে, ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (NPSB)-এর মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের P2P লেনদেনও সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছিল। নির্বাচনের চারদিনের এই বিধিনিষেধে অনেক গ্রাহক জরুরি লেনদেনে সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে ৯৬ ঘণ্টার বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার পর সব ধরনের P2P লেনদেন এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিং স্বাভাবিক নিয়মে পুনরায় চালু করা হয়েছে।
নিচের টেবিলটি মোবাইল ব্যাংকিং সীমাবদ্ধতার সংক্ষিপ্ত চিত্র তুলে ধরছে:
| মোবাইল ব্যাংকিং সেবা | P2P লেনদেন সীমা | দৈনিক লেনদেন সীমা | ব্যবসায়িক/ইউটিলিটি লেনদেন |
|---|---|---|---|
| বিকাশ (bKash) | ১,০০০ টাকা | ১০ ট্রানজেকশন | প্রভাবিত নয় |
| নগদ (Nagad) | ১,০০০ টাকা | ১০ ট্রানজেকশন | প্রভাবিত নয় |
| রকেট (Rocket) | ১,০০০ টাকা | ১০ ট্রানজেকশন | প্রভাবিত নয় |
| ইন্টারনেট ব্যাংকিং | স্থগিত করা হয়েছিল | স্থগিত করা হয়েছিল | প্রভাবিত নয় |
৪ দিনের এই নিষেধাজ্ঞার সময়ে সাধারণ জনগণ নগদ স্থানান্তর ও জরুরি আর্থিক লেনদেনে সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হন। তবে বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস এবং ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের পূর্বের স্বাভাবিক নিয়ম পুনরায় কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক পুনরায় সতর্ক করে জানিয়েছে, নির্বাচনকালীন অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনমতো নিয়মাবলী প্রয়োগ করা হতে পারে, তবে সাধারণ গ্রাহকরা এখন স্বাভাবিকভাবে লেনদেন পরিচালনা করতে পারবেন।
