নোয়াখালী-৬ ভোটকেন্দ্রে হামলা ও উত্তেজনা

নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতা হান্নান মাসউদের স্ত্রী শ্যামলী সুলতানা জেদনীর ওপর ভোটকেন্দ্রে হামলার অভিযোগ উঠে নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থির করার শঙ্কা তৈরি করেছে। শ্যামলী তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে সোমবার জানিয়েছেন, নির্বাচনী কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার সময় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী তার ওপর লোহা রড দিয়ে আঘাত চালায় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।

শ্যামলী আরও জানিয়েছেন, হামলার সময় তিনি ভিডিও ধারণের চেষ্টা করছিলেন, কিন্তু হামলাকারীরা তার মোবাইল ভেঙে ফেলে। হামলার সময় তার দেবরকেও মারধরের শিকার হতে হয়। শ্যামলী অভিযোগ করেছেন, ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত প্রশাসন এই ঘটনার সময় কার্যত নিষ্ক্রিয় ছিল এবং তৎপরতার অভাব দেখা যায়।

এ বিষয়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হান্নান মাসউদের স্ত্রীর ওপর বিএনপির সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে। হামলার সময় মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। আমাদের দাবি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।” নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ভোটারদের কেন্দ্রগুলোতে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়ার ঘটনা লক্ষ্য করা গেছে, যা সুষ্ঠু ভোট প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াখালী-৬ আসনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রগুলোর তদারকিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রশাসনের দ্রুত কার্যক্রম অপরিহার্য বলে মনে করা হচ্ছে।

নিম্নে হান্নান মাসউদ ও তার স্ত্রী সম্পর্কিত ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য টেবিলে তুলে ধরা হলো:

তথ্যের ধরনবিবরণ
প্রার্থীহান্নান মাসউদ
রাজনৈতিক দলজাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
আসননোয়াখালী-৬ (হাতিয়া)
আক্রান্ত ব্যক্তিশ্যামলী সুলতানা জেদনী (স্ত্রী)
হামলার ধরণলোহা রড দ্বারা আঘাত, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া
সহকারী আক্রান্তদেবর
অভিযোগের বিষয়প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা
দায়ের দাবিহামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত

স্থানীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করছেন, ভোটের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে জনগণের মধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পাবে। শ্যামলী সুলতানা জেদনীর অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নির্বাচনী উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে।

এদিকে, ভোটার ও স্থানীয়রা ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে দায়িত্বশীলভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, এটি নিশ্চিত করলে সকল প্রার্থী ও ভোটার নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন এবং নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা সম্ভব হবে।