রাজধানীর ধানমন্ডি সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের একটি নারী কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটারদের মধ্যে বিরক্তি দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রটির ভোটার তালিকার সঙ্গে নাম ও ছবির মিল না থাকায় অনেক ভোটার ভোট দেওয়ার সময় সমস্যায় পড়েছেন।
সকালে ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে এমন সমস্যা নিয়ে প্রায় আটজন ভোটার কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করেন। তবে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নূর হোসেন বিষয়টি কেন্দ্রেই সমাধান করতে পারেননি।
প্রথমবার ভোট দিতে আসা জারিন আরা বলেন, “আমি অ্যাপ থেকে ডাউনলোড করে ভোটার নম্বর ও কেন্দ্রের অবস্থান নিয়ে এসেছিলাম। কেন্দ্রে এসে দেখি নাম ও ছবি কোনোভাবে মিলছে না। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বললেন, তাঁর কিছু করার নেই। এ অবস্থায় হতাশা ছাড়া আর কিছু নেই।”
বয়সে প্রবীণ ভোটার শিরিন আহমেদ বলেন, “আনন্দ নিয়ে ভোট দিতে এসেছিলাম, কিন্তু এখন বিপদে পড়েছি। নামসহ কোনো তথ্য মিলছে না। কী করব, বুঝতে পারছি না।” একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিলকিস নাহার। তিনি বলেন, “বছরখানেক পর ভোট দেওয়ার সুযোগ এসেছে, অথচ এমন সমস্যার মুখোমুখি হতে হলো। কেউ স্পষ্টভাবে সমাধান দেখাচ্ছে না।”
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নূর হোসেন প্রথম আলোকে জানান, “সব ভোটারের সমস্যা এমন নয়। শুধু কিছু ভোটারের তথ্য মিলছে না। আমি বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্রের তালিকা হালনাগাদ আছে এবং যে ভোটারের তথ্য মিলছে না, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন না।”
তবে কিছু ভোটারকে ভোট দিতে দেখা গেছে। তারা আনন্দের সঙ্গে ভোট দেওয়ার পর সেলফি ও ছবি তুলেছেন। অনেকে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে কেন্দ্র এসে স্মৃতিচারণ করেছেন।
নিচের টেবিলটিতে কয়েকজন ভোটারের সমস্যার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| ভোটারের নাম | বয়স | সমস্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| জারিন আরা | ২৫ | নাম–ছবি মিলছে না | প্রথমবার ভোট দিতে এসে হতাশা |
| শিরিন আহমেদ | ৬৮ | নাম–ছবি মিলছে না | আনন্দ নিয়ে ভোট দিতে এসে বিভ্রান্তি |
| বিলকিস নাহার | ৪২ | নাম–ছবি মিলছে না | কেউ সমাধান দেখাচ্ছে না, হতাশা প্রকাশ |
| আনিসা খান | ৩৫ | তালিকায় ঠিক আছে | ভোট দিয়ে কেন্দ্রে সেলফি তোলেন |
| রুবিনা ইসলাম | ২৯ | তালিকায় ঠিক আছে | পরিবার নিয়ে ভোট কেন্দ্রে স্মৃতি তৈরি করেছেন |
কেন্দ্রটির ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যাটি একটি নজরকাড়া ঘটনা হিসেবে ধরা হচ্ছে, যা ভোটারদের আস্থা ও কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনায় সাময়িক প্রভাব ফেলেছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রাট কমিয়ে আনা যাবে।
