ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বপ্রসঙ্গ হিসেবে, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. মোস্তফা খাগড়াছড়ি আসনে ভোটবর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার রাত ১১ ফেব্রুয়ারি, আনুমানিক রাত ৯:৩০ টায় তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ করেন। তিনি প্রশাসনিক পক্ষপাত, হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে ভোটাভুটিতে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
প্রার্থী মোস্তফা জানান, তাঁর এবং তাঁর পরিবারের প্রতি নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে হুমকি প্রদান করা হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি তিনি জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে সশস্ত্র নিরাপত্তা প্রদানের অনুরোধ করেন, যা সম্পূর্ণরূপে পূরণ হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। এছাড়া, নির্বাচনী সময়সূচি ঘোষণার পর নিয়মবিরুদ্ধ কার্যকলাপের কারণে তিনি অভিযোগ দায়ের করেও কোন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন।
মোস্তফা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারকমিটিতে, কিন্তু তা থেকে কোনো বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তিনি ১৮৯টি ভোটকেন্দ্রকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন এবং সম্ভাব্য প্রভাব বা ফলাফল পরিবর্তনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় তিনি তাঁর দলের কর্মী ও ‘হ্যারিকেন’ প্রতীক সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়া অনুরোধ করেছেন।
খাগড়াছড়ি আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান তথ্যসমূহ নিচের টেবিলে সংক্ষেপ করা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আসন | খাগড়াছড়ি |
| মোট প্রার্থী | ১১ |
| উচ্চঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র | ১৮৯ |
| প্রধান অভিযোগ | প্রশাসনিক পক্ষপাত, হস্তক্ষেপ, নিরাপত্তাহীনতা |
| প্রার্থীর নিরাপত্তা অনুরোধ | ৮ ফেব্রুয়ারি (সশস্ত্র নিরাপত্তা চাওয়া) |
| নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ | কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি |
| ভোটবর্জনের ঘোষণা | ১১ ফেব্রুয়ারি, রাত ৯:৩০ |
মোস্তফা বলেন, “ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গেলে তাদের নিরাপত্তা বিপন্ন হতে পারে এবং নির্বাচনের ফলাফলের স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে।” তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ আচরণ বজায় রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রত্যাশিত নির্বাচনী দিনে জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে প্রার্থীর ভোটবর্জনের ঘোষণা স্থানীয় নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। নির্বাচনী পর্যবেক্ষকরা মন্তব্য করেছেন, আসনটিতে সুষ্ঠু ও নিরাপদ ভোট নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। আগামী দিনগুলো এই যন্ত্রণা এবং জনসাধারণের নির্বাচনী আস্থা রক্ষা করার সক্ষমতা পরীক্ষা করবে।
