আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে দেশের আকাশপথে ড্রোন পরিচালনা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) জানায়, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) পর্যন্ত সাধারণ ব্যক্তি, বেসরকারি সংস্থা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের ড্রোন উড়ানো যাবে না।
বেবিচকের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাওছার মাহমুদ এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, “নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জনসমাগমে কোনো ঝুঁকি এড়াতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এই সময়ে কেবলমাত্র প্রতিরক্ষা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ অনুমতির ভিত্তিতে ড্রোন ব্যবহার করতে পারবে।”
তিনি আরও বলেন, “নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি নির্বাচনকালীন সময়ের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”
বেবিচক জানিয়েছে, সাধারণ মানুষ বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এই সময়ে ড্রোন উড়ালে তা কেবল নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি নয়, বরং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও সাইবার নিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য কঠোর নজরদারি চালানো হবে।
নিচের টেবিলে ছয় দিনের নিষিদ্ধকালীন সময়সূচি ও অনুমোদিত ক্ষেত্রগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:
| তারিখ | দিন | অনুমোদিত ড্রোন ব্যবহারকারীরা | সাধারণ মানুষের জন্য অব্যবহৃত |
|---|---|---|---|
| ১০ ফেব্রুয়ারি | মঙ্গলবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১১ ফেব্রুয়ারি | বুধবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১২ ফেব্রুয়ারি | বৃহস্পতিবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১৩ ফেব্রুয়ারি | শুক্রবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১৪ ফেব্রুয়ারি | শনিবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
| ১৫ ফেব্রুয়ারি | রবিবার | প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী | নিষিদ্ধ |
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচনী সময়ে ড্রোনের উপস্থিতি জনসমাগমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং অপরিচিত ড্রোন কোনো অপ্রত্যাশিত নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সুতরাং এই ছয় দিনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞা ভোটারদের নিরাপত্তা, নির্বাচনী শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সার্বিক নির্বাচন পরিচালনার জন্য জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বেবিচক জানায়, নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু ড্রোন-ভিত্তিক বাণিজ্যিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিলম্বিত হতে পারে। তবে কর্তৃপক্ষের মতে, ভোটাধিকার ও নিরাপত্তার স্বার্থে এই পদক্ষেপ অপরিহার্য।
