এভাবেই শেষ হোক, এটা চাইনি

গত ১৮ জানুয়ারি সাবেক ক্লাব অ্যাস্টন ভিলা-র বিপক্ষে ১–০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে খেলার সময় গুরুতর চোট পান ইংল্যান্ডি উইঙ্গার জ্যাক গ্রিলিশ। বর্তমানে এভারটনের ধারাভাষ্যে খেলতে থাকা এই ৩০ বছর বয়সী তারকার পায়ের স্ট্রেস ফ্র্যাকচারের জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়। অস্ত্রোপচারের পর গ্রিলিশ সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন বার্তা প্রকাশ করেছেন, যেখানে তিনি জানিয়েছেন, এইভাবে মৌসুম শেষ হওয়ার কথা তিনি ভাবেননি।

ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন,

“মৌসুমটা এভাবে শেষ হোক, তা চাইনি—কিন্তু এটাই ফুটবল। খুবই হতাশ। অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, এখন পুরো মনোযোগ দ্রুত ফিট হয়ে ফেরার দিকে। আমি নিশ্চিত, আগের চেয়ে আরও ফিট, শক্তিশালী এবং ভালো হয়ে ফিরব।”

এই চোটের কারণে ইংল্যান্ডের ২০২৬ বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল তার। এভারটনে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের কারণে গ্রিলিশের জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছিল। ইংল্যান্ডের অন্তর্বর্তীকালীন কোচ লি কার্সলি-এর অধীনে তিনি সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন।

২০২১ সালে অ্যাস্টন ভিলা থেকে রেকর্ড ১০০ মিলিয়ন পাউন্ডে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর গ্রিলিশ জিতেছেন বিভিন্ন শিরোপা। তবে গত মৌসুমে পেপ গার্দিওলার পরিকল্পনায় ছিলেন না—লিগে মাত্র সাতটি ম্যাচে ছিলেন মূল একাদশে এবং ক্লাব বিশ্বকাপের দল থেকেও বাদ পড়েন। এরপরই তিনি ধারাভাষ্যে এভারটনে যোগ দেন।

নিচের টেবিলে গ্রিলিশের সাম্প্রতিক ক্লাব ও জাতীয় দল সম্পর্কিত তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

বিষয়তথ্য
বয়স৩০ বছর
পজিশনউইঙ্গার
বর্তমান ক্লাবএভারটন (ধারে)
চলতি মৌসুমে ম্যাচ২২
গোল
অ্যাসিস্ট
সর্বশেষ জাতীয় দলের খেলা২০২৪, অক্টোবরে
বড় স্থানান্তরঅ্যাস্টন ভিলা → ম্যানচেস্টার সিটি (১০০ মিলিয়ন পাউন্ড, ২০২১)
জয়ী শিরোপা৩ প্রিমিয়ার লিগ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, এফএ কাপ

অস্ত্রোপচারের পর গ্রিলিশ আরও বলেন,

“এই অসাধারণ ক্লাবে আসার পর থেকে যে সমর্থন পেয়েছি, তা আমার জন্য অনেক বড় ব্যাপার। কোচিং স্টাফ, সতীর্থরা এবং বিশেষ করে সমর্থকেরা ছিলেন অসাধারণ। এই ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত। যত দ্রুত সম্ভব মাঠে ফিরতে যা করা দরকার, সব করব। ততদিন দলের প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখব। এত ভালোবাসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ—এটা আমার কাছে অনেক অর্থবহ।”

এভাবে মৌসুমের হঠাৎ ও হতাশাজনক সমাপ্তি হলেও, গ্রিলিশের দৃঢ় প্রত্যয় এবং ক্লাব ও সমর্থকের প্রতি আন্তরিকতা ফুটবলের এই তারকাকে শিগগিরই মাঠে ফিরিয়ে আনার আশা জাগাচ্ছে।