নাটোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা-মেয়ে নিহত

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মা ও এক বছরের কন্যা নিহত হওয়ায় স্থানীয় সমাজ ও পরিবার শোকের ছায়ায় মুড়ে গেছে। ঘটনায় আরেকজন পরিবারের সদস্য গুরুতর জখম হয়েছেন। প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটই এই দুঃখজনক ঘটনা সংঘটিত করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ভোর ৩:৪০ টার দিকে, ধরাবাড়িশা ইউনিয়নের ঝাউপাড়া বিনাবাড়ি এলাকায়। নিহতরা হলেন আতিক রান্টুর স্ত্রী আটিয়া (২৮) এবং তাদের এক বছরের কন্যা রোয়াইজা। রান্টুর মা, মরজিনা বেগম, কঠোর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

দৃশ্যদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, পরিবারের চারটি আবাসিক ভবন এবং পাশে থাকা একটি মুদি দোকান আগুনে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া আগুনে ১২টি ছাগলও মৃত্যু বরণ করেছে। স্থানীয়রা প্রাথমিকভাবে আর্থিক ক্ষতি ১ থেকে ১.২ মিলিয়ন টাকা হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।

গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আতাউর রহমান জানান, “আমরা ভোর ৪:৪৫ মিনিটে আগুনের খবর পাই এবং সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সত্ত্বেও মা ও কন্যাকে আগুন থেকে বাঁচানো যায়নি।” তিনি আরও জানিয়েছেন যে প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের কারণে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদ / মালামালপরিমাণআনুমানিক ক্ষতি (টাকা)
আবাসিক ভবন৫,০০,০০০–৬,০০,০০০
মুদি দোকান৩,০০,০০০–৪,০০,০০০
ছাগল১২~৫০,০০০
মোট১০,০০,০০০–১২,০০,০০০

স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের উদ্ধার এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সম্প্রদায়ের সদস্যরা বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির নিয়মিত পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যায়।

অগ্নিকাণ্ডটি স্থানীয় সমাজে গভীর ছাপ ফেলেছে। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি সহায়তা প্রদান করছে। আগুনের সঠিক কারণ অনুসন্ধানে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নিরাপত্তা প্রটোকল পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

নাটোরের এই দুঃখজনক ঘটনা গ্রামীণ এলাকায় গৃহবিন্যাস সংক্রান্ত অগ্নিনিরাপত্তার গুরুত্ব এবং আগুনের প্রতিরোধমূলক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তার তাৎপর্য তুলে ধরেছে।