বরিশাল নগরীতে সরকারিভাবে বিনামূল্যে বিতরণের জন্য বরাদ্দকৃত অষ্টম ও নবম শ্রেণির পাঠ্যবই খোলা বাজারে বিক্রি করার সময় হাতে-নাতে এক শিক্ষকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নগরীর সদর রোডের অনামি লেন সংলগ্ন একটি লাইব্রেরির সামনে থেকে তাদের আটক করা হয়। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আটক অভিযান
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্ণকাঠী অগ্রযাত্রা আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি বই বিক্রির উদ্দেশ্যে ভ্যানে করে শহরে আনা হচ্ছে—এমন একটি গোপন সংবাদ পুলিশের কাছে পৌঁছায়। এই তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অনামি লেন এলাকায় ওত পেতে থাকে।
রাত আনুমানিক গভীর হলে একটি লাইব্রেরির সামনে বইগুলো হস্তান্তরের সময় পুলিশ তল্লাশি চালায়। এসময় সরকারি সিলযুক্ত বস্তাবন্দী অবস্থায় ৩২৯টি নতুন পাঠ্যবই উদ্ধার করা হয়। অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই সহকারী শিক্ষক শফিকুল ইসলাম ও ভ্যানচালক রুবেল খানকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
উদ্ধারকৃত বই ও আটকদের পরিচয়
আটককৃতদের মধ্যে মূল অভিযুক্ত শফিকুল ইসলাম কর্ণকাঠী অগ্রযাত্রা আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, স্কুলের স্টোর থেকে এই বইগুলো সরিয়ে তিনি বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে এসেছিলেন। উদ্ধারকৃত বইগুলো ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একনজরে অভিযানের বিস্তারিত তথ্য:
| বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য |
| আটককৃতদের নাম | মো. শফিকুল ইসলাম ও রুবেল খান |
| পেশা | সহকারী শিক্ষক ও ভ্যানচালক |
| উদ্ধারকৃত বইয়ের সংখ্যা | ৩২৯টি |
| শ্রেণি | অষ্টম ও নবম শ্রেণি |
| সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান | কর্ণকাঠী অগ্রযাত্রা আইডিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় |
| অভিযান পরিচালনাকারী | কোতোয়ালি মডেল থানা, বরিশাল |
আইনি ব্যবস্থা ও জনমনে প্রতিক্রিয়া
বিনামূল্যে বিতরণের বই এভাবে খোলা বাজারে বিক্রির ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারি নির্দেশানুযায়ী, বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও একশ্রেণির অসাধু শিক্ষক ও কর্মচারী এই মহৎ উদ্যোগকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
এসআই মো. কামাল হোসেন জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও চুরির অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া এই পাচার চক্রের সাথে বিদ্যালয়ের অন্য কেউ বা বাইরের কোনো লাইব্রেরি মালিক জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। উদ্ধারকৃত বইগুলো বর্তমানে থানা হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে ফেরত পাঠানো হতে পারে।
বরিশাল জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা রক্ষায় এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
