ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের কোর্তিনা শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইসরাইলি প্রতিনিধি দলের প্রবেশ মুহূর্তে দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ প্রকাশ স্পষ্ট দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর কাড়ার এই আয়োজন মূলত উৎসবমুখর থাকলেও, ইসরাইলি দলের চার সদস্যের পতাকাবাহী দলের কুচকাওয়াজের সময় ভেসে আসে শিস ও প্রতিবাদের স্লোগান।
এটি শুধু মিলানের স্টেডিয়ামে সীমাবদ্ধ ছিল না; একযোগে উত্তর ইতালির বিভিন্ন ক্লাস্টারেও অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে উত্তেজনা লক্ষ্য করা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও স্বল্প সময়ের জন্য উপস্থিত থাকাকালীন একই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। ভ্যান্সের সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী উষা, যাঁরা পতাকা নেড়ে ক্রীড়াবিদদের অভ্যর্থনা জানাচ্ছিলেন।
দর্শক ও বিক্ষোভকারীদের প্রতিক্রিয়ার পেছনে মূলত গত বছরের গাজা সংঘাত ও ইসরাইলের সাম্প্রতিক কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে অসন্তোষের কারণ রয়েছে।
সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিস্থিতি ও বিক্ষোভের পটভূমি
| তারিখ | ঘটনা | মৃত্যুর সংখ্যা | মন্তব্য |
|---|---|---|---|
| ৭ অক্টোবর ২০২৫ | গাজা যুদ্ধের তীব্র অভিযান | ≈৫৬০ | অধিকাংশই বেসামরিক |
| ১৯৭২, মিউনিখ অলিম্পিক | ইসরাইলি ক্রীড়াবিদদের ওপর হামলা | ১১ | ফিলিস্তিনি নাগরিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ |
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীন ‘আইসিই আউট’ স্লোগানে শত শত মানুষ বিক্ষোভ দেখান। ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই)-এর শাখার সঙ্গে যুক্ত বিশ্লেষকরা মার্কিন প্রতিনিধিদলকে সহায়তা প্রদান করবে এমন খবর ইতালিতে পৌঁছার পর প্রতিক্রিয়া তীব্র হয়।
অলিম্পিকের ইতিহাসে ইসরাইলিরা বেশ কয়েকটি নৃশংস ঘটনার স্বীকার হয়েছেন। ১৯৭২ সালের মিউনিখ অলিম্পিকে ১১ জন ক্রীড়াবিদ নিহত হন। বর্তমান পরিস্থিতি এবং গত বছরের সংঘাত এই ইতিহাসকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি (আইওসি) ইসরাইলকে নিষিদ্ধের দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও, অংশগ্রহণকারীরা এবং দর্শকদের মধ্যে অসন্তোষ স্পষ্ট।
এবছরের শীতকালীন অলিম্পিক উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি কেবল ক্রীড়া প্রদর্শনের মঞ্চ নয়; এটি আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের প্রতিফলনও হয়ে উঠেছে। মিলানের সান সিরো স্টেডিয়াম ও অন্যান্য ক্লাস্টারে আয়োজনকৃত অনুষ্ঠানে উভয় রাজনীতিক ও ক্রীড়াপ্রেমীদের মধ্যকার উত্তেজনার দৃশ্য যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের এই ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনে ইসরাইলের বর্তমান নীতিনির্ধারণ ও ফিলিস্তিনি পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে। পরবর্তী দিনগুলোতে শীতকালীন খেলাগুলোতে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নজরদারির মধ্যে থাকবে।
